Image description

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বিদ্রোহের আঁচ লেগেছে। দল ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি তুলছেন একাধিক নেতারা। বিশেষ করে দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে উঠছে অভিযোগের তির।

 

এবার সেই অভিযোগ তালিকায় যুক্ত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র বিশ্বজিৎ দেব। দলের ভবিষ্যত বলতে আর কিছু নেই বলেই মত তার। তৃণমূল ছাড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন এই রাজনীতিবিদ।

 

বিশ্বজিৎ বলেন, ‘টুকরো টুকরো হয়ে যাবে তৃণমূল। আমার ধারণা, কিছু নেতাকর্মী চলে যাবেন কংগ্রেসে। কেউ বিজেপিতে। আবার কেউ সিপিএমে। আমরা আগে বলতাম কংগ্রেস, সিপিএম সাইনবোর্ড হয়ে গেছে। এবার তৃণমূলটাও হয়ে যাবে।’

 

এই তৃণমূল নেতার মতে, ঘাসফুল শিবিরে এমন ভরাডুবির নেপথ্যে দুর্নীতি। গত পাঁচ বছর ধরে যা প্রায় পাহাড়সমান। তিনি মনে করেন, এই দুর্নীতির কথা অজানা ছিল না মমতা কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়েরও।

বিশ্বজিৎ বলেন, তৃণমূলের ভেতরে দুটি ভাগ হয়ে গিয়েছিল। একটি গোষ্ঠী ছিল মমতাদিকে ঘিরে। আরেকটি অভিষেককে ঘিরে। তার গোষ্ঠীর বাইরে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী, মন্ত্রী-এমপিরাও যেতে পারতেন না।

 

তৃণমূলের নির্বাচনি থিঙ্কট্যাঙ্ক আইপ্যাকের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ ঝেড়েছেন বিশ্বজিৎ। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল অথচ বাণিজ্যিক কোনো সংস্থার মাধ্যমে করপোরেট টিমের মাধ্যমে ডিল করতে হবে, নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ থাকবে না, তা হতে পারে না।

 

তার দাবি, দলের এই ‘অন্তঃসারশূন্যতা’ নিয়ে তিনি মুখ খোলার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাতে লাভ হয়নি। বরং ক্রমশ কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছিল তাকে। আইপ্যাকই কলকাঠি নাড়ে বলে অভিযোগ করেন বিশ্বজিৎ।

 

আর সেই অভিমান থেকেই গত বছর তিনেক ধরে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এই বর্ষীয়ান নেতা। তার মতে, এই বিপর্যয়ের দায় মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিতেই হবে।

 

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন