Image description

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও পাল্টাপাল্টা হামলা ও শান্তিচুক্তি ঘিরে আলোচনার মধ্যেই ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্রভান্ডার পুনরায় সক্রিয় ও খননের মাধ্যমে বের করে আনার চেষ্টা করছে ইরান। বিশ্লেষণ ও স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির অন্তত ৬৯টি ভূগর্ভস্থ টানেল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৫০টি টানেলে প্রবেশের পথ পরিষ্কার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

স্যাটেলাইট ছবিতে ট্রাক ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে খনন কার্যক্রমও দেখা গেছে, যা থেকে মনে করা হচ্ছে ইরানে অস্ত্রভান্ডারগুলো পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে।

এসব পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সাম্প্রতিক হামলা ও চাপ সত্ত্বেও ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। কিছু সামরিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, আন্ডারগ্রাউন্ড অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে দেশটি এখনো অস্ত্র ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান কিছু কর্মকর্তার দাবি, ইরানের অস্ত্র সক্ষমতা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়নি। মার্কিন যুদ্ধ মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরান কিছু অস্ত্র বের করে আনলেও তা পুনরায় প্রতিস্থাপন করার সক্ষমতা তাদের সীমিত।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এর পক্ষ থেকে আগে দাবি করা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে নতুন স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারস্য উপসাগরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ, এসব স্থাপনা মার্কিন বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করছিল।

একই সময়ে মার্কিন বাহিনী চারটি ইরানি 'ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন' ভূপাতিত করেছে বলেও জানানো হয়।

পরবর্তী সময়ে ইরানও দাবি করে যে, তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চলমান উত্তেজনা ও সামরিক তৎপরতা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে।