ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রতিবেদন করার কারণে এক সাংবাদিককে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ ও ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় এই মন্তব্য করেন তিনি।
বেইজিংয়ে তিন দিনের শীর্ষ সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ট্রাম্পকে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বর্তমানে নাজুক যুদ্ধবিরতির কারণে সংঘাত কিছুটা থেমে থাকলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আবারও শুরু হতে পারে সামরিক অভিযান।
নিউইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউস ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদক ডেভিড স্যাঙ্গার ট্রাম্পের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেন, ‘আবার বোমা হামলা চালিয়ে কী লাভ হবে? আপনি ৩৮ দিন ধরে হামলা চালিয়েছেন, কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারেননি ইরানে।’
গণমাধ্যমের ওপর প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করা ট্রাম্প জবাবে বললেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সামরিক বিজয় অর্জন করেছি। কিন্তু ভুয়া সংবাদমাধ্যম, আপনার মতো লোকেরা ভুলভাবে লেখে। আপনি ভুয়া মানুষ।’
৭৯ বছর বয়সী এই ধনকুবের আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার সক্ষমতা এবং উচ্চ ও নিম্ন পর্যায়ের নেতৃত্বও রয়েছে এর মধ্যে।
তিনি বললেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ বিজয় পেয়েছি, শুধু আপনার মতো মানুষরা সত্য লেখে না। আমি সত্যিই মনে করি, আপনি যা লিখছেন তা এক ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহিতা। আপনি, নিউইয়র্ক টাইমস এবং সিএনএন সবচেয়ে খারাপ।’
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘আপনাদের এর চেয়ে ভালো বোঝা উচিত। আপনাদের সম্পাদকরা কী লিখতে হবে বলে দেন, আর আপনারা তা-ই লেখেন। এজন্য আপনাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।’
স্যাঙ্গার আবার প্রশ্ন করার চেষ্টা করলে ট্রাম্প তাকে থামিয়ে দিয়ে আবারও ইঙ্গিত দেন যে গুরুতর অপরাধ করেছেন তিনি।
ট্রাম্প বললেন, ‘আমি সত্যিই মনে করি এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। যখন আপনারা এমনভাবে লেখেন যেন তারা সামরিকভাবে ভালো করছে, অথচ তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনী নেই, কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘এই কারণেই আপনাদের গ্রাহকসংখ্যা অনেক কমে গেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের গ্রাহকসংখ্যা ব্যাপকভাবে কমেছে, কারণ এটি ভুয়া সংবাদমাধ্যম।’