ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অংশে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ দ্রুত শেষ করতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সীমান্তের উন্মুক্ত অংশে দ্রুত বেড়া নির্মাণ নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশাসন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালদহ জেলার হাবিবপুর ও কালিয়াচক-৩ ব্লকের সীমান্ত এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)–এর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, মালদহ জেলার প্রায় ১৭০ কিলোমিটার সীমান্তের বড় অংশ এখনও অরক্ষিত। উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, জাল নোট ও চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মালদহের জেলা প্রশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানান, বিএসএফ, সিপিডব্লিউডি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সীমান্তের প্রায় ৩৩ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণে ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
তবে বিষয়টিকে শুধু নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ মনে করেন, সীমান্তে বেড়া নির্মাণের পেছনে রাজনৈতিক ও কৌশলগত উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
তার দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বিপুলসংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এসব মানুষের একটি অংশকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশ-ইন’ করার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। হুমায়ুন কবির বলেন, সীমান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশ আর নতজানু অবস্থানে নেই। কাঁটাতারের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সীমান্তে কোনো ধরনের ‘পুশ-ইন’ যেন না ঘটে সে বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)–কে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে নতুন বেড়া নির্মাণের বিষয়েও ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে ভারতের এই নতুন তৎপরতা শুধু নিরাপত্তা নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতি ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
শীর্ষনিউজ