ব্যবসায়ী পিতার বাড়িতে প্রেমিককে ডাকাতির কাজে সহযোগিতার অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ওই তরুণীর প্রেমিকসহ আরও চারজন। ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদের এ ঘটনায় তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে ভারত জুড়ে।
পুলিশের বরাতে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদের পিতল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের মেয়ে আরিবার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আমরাহ জেলার বাসিন্দা আরশাদ ওয়ারসির। ভিন্ন জাতের হওয়ায় গত সাত-আট বছর ধরে চলা তাদের এই সম্পর্ক মেনে নেননি ইমরান।
এতে বাড়ি থেকে টাকা লুট করে নতুন জায়গায় জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করে প্রেমিকযুগল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়িতে কত টাকা রাখা আছে সেই তথ্য প্রেমিককে জানান আরিবা। এমনকি এক মাস আগেই আরশাদকে বাড়ির প্রধান ফটকের চাবিও সরবরাহ করেন তিনি। ঘটনার রাতে বাড়ির ডিজিটাল লকটি ভেতর থেকে খুলে দেন, যাতে সহজেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে ডাকাতরা।
মুরাদাবাদ থানার পুলিশ জানায়, গত ১১ মে ভোর ৪টার দিকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে একদল ডাকাত। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।

প্রমাণ যাতে না থাকে সেজন্য যাওয়ার সময় বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআরটিও সঙ্গে নিয়ে যায় তারা। ঘটনার সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন ইমরান, তার স্ত্রী সীমা এবং তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চারটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।
আজ শুক্রবার এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের মেয়ে আরিবা, তার প্রেমিক আরশাদ ওয়ারসিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৭ লাখ ২৪ হাজার রুপি, চারটি দেশি পিস্তল, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং দুটি গাড়ি।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বাকি টাকা ও অলঙ্কার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনকেই আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে কারাগারে।
এদিকে নিজের মেয়ের এমন বিশ্বাসহীনতায় বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে ব্যবসায়ী ইমরানের পরিবারে।