দুদিন আগে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এবার সেই সংকট প্রকাশ্যে আসল। ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান বুধবার (১৩ মে) ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা তথা এশিয়ার সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করা মুদ্রা এখন ভারতীয় রুপি। তেলের দাম বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় বাড়ায় ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ।
গণমাধ্যমটির জরিপ অনুযায়ী, ভারতীয় রুপির মান বুধবার ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামে। টানা দরপতনের ধারাবাহিকতায় এক ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৭৯। এর আগের দিন রুপির সর্বনিম্ন রেকর্ড ছিল ৯৫ দশমিক ৭৩।
এছাড়া বিদেশি ঋণ পরিশোধ এবং আমদানিকারকদের হেজিং চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রুপির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। যদিও স্বর্ণ ও রুপা আমদানিতে কর বাড়িয়ে কিছুটা সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে নয়াদিল্লি।
রুপিয়াহ ও রুপির অবস্থা শোচনীয় হলেও এশিয়ার অন্যান্য কিছু মুদ্রার ওপর থেকে মন্দার চাপ কিছুটা কমেছে। সেমিকন্ডাক্টর, মেমোরি চিপ ও প্রযুক্তি খাতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ভালো আয়ের সুবাদে দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বেড়েছে।
এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ান ওন এবং তাইওয়ান ডলারের ওপর চাপ গত ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। থাই বাথের ওপর চাপও মার্চের পর কিছুটা শিথিল হয়েছে, যদিও জ্বালানির ধাক্কা ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব উদ্বেগে চলতি বছর বাথের মান ২ দশমিক ৭২ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, সিঙ্গাপুরের ডলার ও মালয়েশিয়ান রিংগিতের ক্ষেত্রে আশাবাদের পারদ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপদ অর্থনৈতিক নীতি ও মালয়েশিয়া নিজে একটি তেল-গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এই দুটি মুদ্রা বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।