Image description

মমতার আঁচল হারিয়েছে কলকাতা। ১৫ বছর ধরে এই ছায়াতলেই মিলেমিশে ছিলেন রাজ্যের হিন্দু-মুসলমানরা। ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলের দিনেই সে আশ্রয় হারিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপির ‘ঘর ভাঙা’ ঝড়ে উড়ে গেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের ঠিকানাই। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে এক ঝটকায় ২০৭ আসন ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। ফল ঘোষণার পরপরই কলকাতার মুসলিমদের বুকে শুরু হয়েছে বিজেপির সেই উগ্র হিন্দুত্ববাদী তাণ্ডব— বুলডোজার-নৃত্য! পলকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোদিশিষ্য যোগী আদিত্যনাথের মুসলিমবিদ্বেষী নীতি।

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী নিউ মার্কেট এলাকায় বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠছে, বিজেপি সমর্থকরাই রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে মুসলিম ব্যবসায়ীদের মাংসের দোকান ভেঙে দেয়। গুঁড়িয়ে দেয় তৃণমূলের এক পার্টি অফিসও। ঘটনাটিকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ফল ঘোষণার পর বিজয় মিছিলের আবহে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, হঠাৎ করেই বুলডোজার নিয়ে এসে একের পর এক দোকান ভাঙা হয়। বিশেষ করে, মাংসের দোকানগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়, যা নিয়ে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও তারা প্রথমদিকে কোনো সক্রিয় পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বহু দোকানদার রাতেই দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যান। পরদিনও নিউ মার্কেটের বহু দোকান বন্ধ ছিল।

তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির এই বুলডোজার রাজনীতি আসলে মানুষকে ভয় দেখানোর কৌশল। তাদের দাবি, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিরোধী সমর্থক ও সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীদের টার্গেট করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে তারা ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। যদিও এ ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্যও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উত্তর প্রদেশের মতো বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোয় বুলডোজারকে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেই একই ছবি এখন বাংলার রাজনীতিতেও দেখা যাচ্ছে।

ঘটনার পর নিউ মার্কেট এলাকার বাণিজ্য-ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বহু হকার ও ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই এ ঘটনার তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন। কলকাতা পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, বুলডোজার নিয়ে কোনো মিছিল বা ভাঙচুর বরদাস্ত করা হবে না।