ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা হবে আজ সোমবার সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৮টা)। ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা রাজ্যের সর্বত্র।
জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও বুথফেরত সমীক্ষাগুলো দিয়েছে মিশ্র বার্তা।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় কলকাতাসহ ২৩ জেলায় স্থাপিত ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গণনা শুরু হবে। গত নির্বাচনে এই কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১০৮টি। কলকাতার সবচেয়ে বড় গণনাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে। এখানে কলকাতা মহানগরীর ১১টি আসনের মধ্যে ৭টি আসনের ফল গণনা করা হবে।
ভোট গণনায় বিশেষ নজর থাকবে ভবানীপুরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ফলাফলের ওপর। এ ছাড়া তৃণমূলের তারকা প্রার্থীদের মধ্যে কলকাতা বন্দর আসনে ফিরহাদ হাকিম, রাসবিহারীতে দেবাশীষ কুমার, চৌরঙ্গীতে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষ, শ্যামপুকুরে শশী পাঁজা, উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদা আসনে মধুপর্ণা ঠাকুরের ফলের ওপর নজর থাকবে।
প্রথমে গণনা করা হবে পোস্টাল ব্যালটের ভোট। এরপর খোলা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। দুপুর ১২টার মধ্যে জয়–পরাজয়ের গতিপ্রকৃতি জানা যাবে। তবে গণনা পুরোপুরি শেষ হতে কোনো কোনো কেন্দ্রে রাতও হয়ে যেতে পারে।
বর্তমানে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ‘স্ট্রং রুমে’ রাখা হয়েছে ব্যালট। ব্যবস্থা করা হয়েছে কড়া নজরদারির। পাহারা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। রাজ্যের বিভিন্ন গণনাকেন্দ্র আলাদাভাবে ‘স্ট্রং রুমের’ বাইরে পাহারা বসিয়েছে তৃণমূল ও বিজেপিও। যদিও নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে বিজেপি ইভিএমে ফল জালিয়াতি করতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অবশ্য ভোট গণনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গণনাকেন্দ্র। গণনাকেন্দ্রে যেসব দলের ‘কাউন্টিং এজেন্ট (গণনাকারী প্রতিনিধি)’ ঢোকার অনুমতি পাবেন, তাঁদের ‘কিউআর কোড’–সংবলিত পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। কোনো ‘কাউন্টিং এজেন্ট’ গণনাকেন্দ্রে মুঠোফোন নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। কেবল নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মুঠোফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ভোট গণনায় বিশেষ নজর থাকবে ভবানীপুরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ফলাফলের ওপর। এ ছাড়া তৃণমূলের তারকা প্রার্থীদের মধ্যে কলকাতা বন্দর আসনে ফিরহাদ হাকিম, রাসবিহারীতে দেবাশীষ কুমার, চৌরঙ্গীতে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষ, শ্যামপুকুরে শশী পাঁজা, উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদা আসনে মধুপর্ণা ঠাকুরের ফলের ওপর নজর থাকবে।
বিজেপির অন্য প্রার্থীদের মধ্যে শিবপুরে রুদ্রনীল ঘোষ, আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পাল, নোয়াপাড়ায় অর্জুন সিং, রাজারহাট-গোপালপুরে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, পানিহাটিতে আর জি কর হাসপাতালে খুন হওয়া ছাত্রীর মা রত্না দেবনাথের ফলাফলে চোখ থাকবে সাধারণ মানুষের।
ভোট গণনায় বিশেষ নজর থাকবে ভবানীপুরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ফলাফলের ওপর।
এ ছাড়া বাম প্রার্থীদের মধ্যে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও সায়নদ্বীপ মিত্র; কংগ্রেসের প্রার্থীদের মধ্যে অধীর চৌধুরী, মৌসুম বেনজীর নূর, শুভংকর সরকার, মনোজ চক্রবর্তী, শাহনাজ বেগম ও আবদুর রাজ্জাক মোল্লা এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) নওশাদ সিদ্দিকী কেমন ফল করছেন, তা নিয়ে আগ্রহ থাকবে।
এর আগে গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনে ভোট হয়। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট নেওয়া হয় ১৬ জেলার ১৫২ আসনে। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোট নেওয়া হয় কলকাতাসহ ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে। এবারের প্রথম দফা নির্বাচনে ১৫২ আসনে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৪৭৮ জন। তাঁদের মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন ১৬৭ জন। দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসনে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৪৪৮ জন। তাঁদের মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন ২২০ জন। আগামীকাল ভাগ্য নির্ধারিত হবে এসব প্রার্থীর।