আগামীকাল ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতে যাচ্ছে। তবে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হলেও একটি আসনে কাল কোনো নেতা নির্বাচিত হচ্ছেন না। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে ফলতা কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন আগামী ২১ মে এই কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই ভোট গ্রহণ করা হবে এবং ফল ঘোষণা করা হবে ২৪ মে।
কেন এই পুনর্নির্বাচন?
নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথের ভেতরে অননুমোদিত ব্যক্তির উপস্থিতি এবং ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার অভিযোগ, ১৭৭ নম্বর বুথে ইভিএমে বিজেপির প্রতীকের বোতাম টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ১৪৪ ও ১৮৯ নম্বর বুথেও একই ধরনের কারচুপির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য।
ভোটের দিন ফলতার বেলসিং এলাকায় ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন নারী ও এক শিশু আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার পর ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি ওঠে, যার মধ্যে ৩২টিই ছিল ফলতার।
ফলতা নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই
এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিজেপির দেবাংশু পান্ডা, কংগ্রেসের আবদুর রাজ্জাক মোল্লা এবং সিপিআইএমের শম্ভু নাথ কুর্মি।
বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘তৃণমূলের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ফলতার নারীদের জয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে, মানিকতলা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় বলেন, ফলতার মতো ঘটনার কারণেই ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিশাল ব্যবধানে জয় পান।
এর প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘১০ বার জন্ম নিলেও গুজরাটি গ্যাং আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, সাহস থাকলে ফলতায় এসে লড়াই করুন।’
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল ফল ঘোষণা করা হলেও ফলতা আসনের জন্য জনতাকে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।