Image description

কলম্বিয়ার সান্তা মারতা শহরে এ সপ্তাহে প্রায় ৬০টি দেশের মন্ত্রীরা জড়ো হচ্ছেন জীবাশ্ম জ্বালানি ধাপে ধাপে বন্ধ করার লক্ষ্যে প্রথম বৈশ্বিক সম্মেলনে। তবে এ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি যুক্তরাষ্ট্রকে।

 

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশে জ্বালানির ঘাটতি, মূল্যবৃদ্ধি, রেশনিং, কর্মঘণ্টা কমানো এবং ভ্রমণে সীমাবদ্ধতা আরোপের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর অস্থিতিশীলতা—যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। অনেক দেশকে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করছে। যদিও কিছু দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা ভাবছে, অন্যরা আবার কয়লার মতো নিজস্ব জ্বালানি উৎসের দিকে ঝুঁকছে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমানো নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে এসে প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন এবং অন্যান্য দেশকে আমেরিকান তেল-গ্যাস কেনার আহ্বান জানান।

গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনেও ট্রাম্প প্রশাসন অনুপস্থিত ছিল। সেখানে ৮০টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসার রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হলেও সৌদি আরবসহ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বাধার মুখে তা বাস্তবায়ন থমকে যায়।

বর্তমান সম্মেলনটি কলম্বিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নেতৃত্বে আয়োজন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য জীবাশ্ম জ্বালানি ত্যাগে আগ্রহী দেশগুলোর একটি জোট গঠন করা। এতে তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলো অংশ নিচ্ছে। কানাডা, নাইজেরিয়া, নরওয়ে ও ব্রাজিলের মতো বড় জ্বালানি উৎপাদক দেশও অংশগ্রহণ করছে।

তবে চীন, ভারত, রাশিয়া, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এতে অংশ নিচ্ছে না।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।