ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা শুক্রবার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাস্তব শান্তি কেবল আন্তর্জাতিক আইনকে ধারাবাহিক ও নীতিনিষ্ঠভাবে রক্ষা করার মাধ্যমেই সম্ভব। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনানুষ্ঠানিক নেতাদের বৈঠকের পর বক্তব্য দিতে গিয়ে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং গ্রিক সাইপ্রিয়ট নেতা নিকোস ক্রিস্টোদুলিদেসের পাশে দাঁড়িয়ে কোস্তা বলেন, ইউরোপ বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ নিরাপত্তা পরিবেশে কাজ করছে। যা টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ৩৬০-ডিগ্রি দৃষ্টিভঙ্গি দাবি করে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই সংঘাতের অংশ নয়। তবে আমরা এর সমাধানের অংশ হব। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, লেবানন ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে এ কথা বলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরাইল ও লেবাননের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিগুলোকে স্বাগত জানানোর যোগ্য অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে জোর দিয়ে বলেন, এখন সব পক্ষকে সৎ উদ্দেশ্যে শান্তি অর্জনের জন্য আলোচনায় যুক্ত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যখন এই সংঘাতের আলোচনাভিত্তিক সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছি, তখন আমাদের নীতি স্পষ্ট: বাস্তব শান্তি কেবল আন্তর্জাতিক আইন ধারাবাহিক ও নীতিনিষ্ঠভাবে রক্ষা করার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। ভন ডার লিয়েন বলেন, ইইউ নেতারা ইউরোপীয় চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন, যা নীতিগতভাবে খুবই শক্তিশালী হলেও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়।
তিনি আরও বলেন, ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস এবং প্রতিরক্ষা কমিশনারের সঙ্গে দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বয় ব্যবস্থার কাঠামো নির্ধারণে কাজ চলছে।
ইরান প্রসঙ্গে ভন ডার লিয়েন বলেন, ইইউ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে তা কঠোর শর্তসাপেক্ষ হতে হবে। তার মতে, আমাদের মতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি কেবল তখনই বিবেচনা করা যেতে পারে যখন উত্তেজনা হ্রাসের সত্যতা যাচাই করা যাবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় ইরানের পারমাণবিক হুমকি নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি এবং নিজেদের জনগণের ওপর দমননীতি পরিবর্তনের বিষয়গুলোতে। কোস্তা এই অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি এখনই বিবেচনা করার সময় হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
শুক্রবারের আগের দিকে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ র্মেৎস ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তেহরান গঠনমূলকভাবে এগোলে এবং একটি বিস্তৃত চুক্তি সম্ভব হলে ইউরোপীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে প্রস্তুত।