যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়াকে (২৬) জামিন না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। আদালতে এ সংক্রান্ত আবেদনের নথিতে আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, লাশ গুম করতে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্ল্যাটফর্মে উত্তর খুঁজেছিলেন হিশাম।
আদালতের নথি অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটিকে হিশাম জিজ্ঞেস করেছিলেন- ‘একজন মানুষকে কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হয়?’ চ্যাটজিপিটি জবাব দেয়, ‘এটি বিপজ্জনক শোনাচ্ছে।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে হিশাম আরেকটি বার্তায় জিজ্ঞেস করেন- ‘তারা কীভাবে জানতে পারবে?’
এআই প্ল্যাটফর্মে এমন বার্তা আদানপ্রদানের ঝুঁকির বিষয়ে চ্যাটজিপিটির মূল প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এনবিসি নিউজ। তবে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি। আদালতের নথিতে আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি নিখোঁজের তিনদিন আগে (১৩ এপ্রিল) হিশাম এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার আদালতে জমা হওয়া নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হিশামের এক রুমমেট তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ১৭ এপ্রিল তিনি হিশামকে ঘর থেকে কিছু কার্ডবোর্ডের বাক্স অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের কম্প্যাক্টর ডাস্টবিনে নিয়ে যেতে দেখেছেন। পরে ওই ডাস্টবিন তল্লাশি করে লিমনের কিছু জিনিসপত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে স্টুডেন্ট আইডি ও ক্রেডিট কার্ড।
গত শুক্রবার লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ হিশামকে গ্রেপ্তার করে। তিনি লিমনের রুমমেট ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৬ এপ্রিল লিমন ও তাঁর বান্ধবী নাহিদা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। দুজনকে হত্যার মামলায় হিশামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষা অনুযায়ী, ডাস্টবিনে পাওয়া একটি ধূসর রঙের টি-শার্টের জেনেটিক উপাদানের সঙ্গে লিমনের মিল থাকতে পারে। একইভাবে একটি কিচেন ম্যাটে বৃষ্টির জেনেটিক উপাদান পাওয়া গেছে।
নথিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্রধান আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের তদন্তকারীরা একটি মোটা ময়লার ব্যাগে লিমনের দেহের অংশ খুঁজে পান। ব্যাগটি থেকে পচনের গন্ধ বের হচ্ছিল। ময়নাতদন্তের বরাতে আদালতের আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে একাধিক ধারালো আঘাতে লিমনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে বৃষ্টির জীবিত থাকার কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, তাঁর দেহও হিশাম সরিয়ে ফেলেছেন।
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার বৃষ্টিকে খোঁজার সময় মানবদেহের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। তবে এখনো সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানাতে পারেনি শেরিফ অফিস। আদালতের নথিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিশাম দাবি করেছেন, ১৬ এপ্রিল তিনি লিমন ও বৃষ্টিকে ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই রাতে হিশাম ময়লার ব্যাগ, জীবাণুনাশক লিকুইড কিনেছিলেন। তাঁর অ্যাপার্টমেন্টেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া, বৃষ্টির মোবাইল ফোনের গোলাপি রঙের কভারসহ বেশ কিছু জিনিসপত্রও তিনি ফেলে দিয়েছিলেন।
হিশামের আইনজীবী ও হিলসবরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসের হত্যা মামলা বিভাগের প্রধান জেনিফার স্প্র্যাডলি ইমেইলে এনবিসিকে জানিয়েছেন, এই মামলায় তাদের কোনো মন্তব্য নেই।
আদালতের নথি অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তারা যখন হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তখন প্রথমে তিনি লিমন ও বৃষ্টির অবস্থান জানার কথা অস্বীকার করেন। কিন্তু পরে গোয়েন্দারা যখন নিজেদের প্রাপ্ত তথ্যের বিষয়ে জানান, তখন হিশাম বক্তব্য পরিবর্তন করেন।
গোয়েন্দাদের হিশাম জানান, লিমন তাঁকে রাইডের অনুরোধ করেছিলেন। পরে তিনি তাদের ক্লিয়ারওয়াটারে নামিয়ে দেন। তবে কেন তাদের সেখানে নামিয়ে দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো কারণ জানাননি। তদন্ত চলার সময় পুলিশ ক্লিয়ারওয়াটারে যাওয়ার পথে একটি সেতুর কাছে থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে।