Image description

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন সাবেক প্রেসিডেন্টকে উস্কানি দিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু তারা তাকে পাত্তা দেননি। সর্বশেষ নেতানিয়াহুর ফাঁদে পা দিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। না, এটা হালকা কোনো সূত্রের খবর নয়। এমন তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ‘দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কোলবার্ট’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে ‘ওবামা না বলেছেন। বুশ না বলেছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনও না বলেছেন। আমি নিজেও ওই আলোচনার অংশ ছিলাম।’ সাবেক এই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আগের প্রেসিডেন্টরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে রাজি হননি। কারণ তারা মনে করেছিলেন যে ‘শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার সব পথ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।’

 

তিনি যুক্তি দেন, ভিয়েতনাম ও ইরাক- দুই যুদ্ধ থেকেই একটি বড় শিক্ষা পাওয়া যায়, যা তিনি নিজে ভিয়েতনাম যুদ্ধের একজন অভিজ্ঞ সেনা হিসেবে জানেন। আর তা হলো, আমেরিকান জনগণকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়। জন কেরি বলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধের একজন ভেটেরান হিসেবে বলছি- ওই যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমাদের মিথ্যা বলা হয়েছিল। ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের শিক্ষা হলো, আমেরিকান জনগণের কাছে মিথ্যা বলবেন না। তারপর তাদের ছেলেমেয়েদের যুদ্ধ করতে পাঠাতে বলবেন না।

জন কেরির এই বক্তব্যের একটি ক্লিপ শেয়ার করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল ‘প্রেস টিভি’ লিখেছে, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ওবামা, বুশ ও বাইডেনকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সবাই তা প্রত্যাখ্যান করেন। ধারণা ছিল, সরকার পরিবর্তন হবে এবং জনগণ বিদ্রোহ করবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।

নেতানিয়াহুর কঠোর প্রস্তাব
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত বলা হয়েছে, কীভাবে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালাতে রাজি করান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ই ফেব্রুয়ারি সিচুয়েশন রুমে নেতানিয়াহু জোরালোভাবে যুক্তি তুলে ধরেন যে, ইরানে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ অভিযান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তখন বলেন, ‘শুনতে ভালো লাগছে’। পরে যৌথ সামরিক অভিযানে সবুজ সংকেত দেন। জন কেরি বলেন, নেতানিয়াহুর এই উপস্থাপনাটি ছিল একটি ‘পূর্বাভাস’। কিন্তু তার দাবি, যে জনগণ রাস্তায় নেমে সরকার উৎখাত করবে বাস্তবে তা ঘটেনি।

জেডি ভ্যান্স-নেতানিয়াহু উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ
গত মাসে ‘অ্যাক্সিওস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার ইরান যুদ্ধ নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী ধারণার সমালোচনা করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুকে ভ্যান্স প্রশ্ন করেন- সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে তার এত আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি কী। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের আগে বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) প্রেসিডেন্টের কাছে বিষয়টি খুব সহজ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, যেন সরকার পরিবর্তন খুবই সম্ভাব্য। কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট বিষয়টি আরও বাস্তবভাবে দেখেছেন।