তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে পাকিস্তানের প্রশংসা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে ইসলামিক রিপাবলিক কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তাকে ৮ এপ্রিল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর জন্য পাকিস্তানের অনুরোধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
বিবৃতিতে বলা হয়, আরোপিত যুদ্ধের অবসান এবং ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানের সৌজন্যমূলক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতার উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাকায়ী জোর দিয়ে বলেন, তেহরান ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো হুমকি বা শত্রুতার বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাকায়ী বলেন, কূটনীতি হলো জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি হাতিয়ার। যখনই আমরা মনে করব যে এই হাতিয়ার ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ও যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে, যাতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং শত্রুদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করার অর্জনগুলো সুসংহত করা যায়, তখনই আমরা পদক্ষেপ নেব।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি এবং তেহরানের সব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসনের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ী নেয়া হয়েছে। বাকায়ী আরও বলেন, ইরান আগ্রাসনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে, নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতে সব ধরনের সুযোগ ও সক্ষমতা ব্যবহার করবে। এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধের দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণ দাবি অন্তর্ভুক্ত।
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা
এই বিবৃতির আগে বুধবার ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর একতরফা ঘোষণা দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লিখেছেন, ইরান সরকারের ভেতরে গুরুতর বিভক্তি রয়েছে, যা অপ্রত্যাশিত নয়। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অনুরোধে আমরা ইরানের ওপর আক্রমণ স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছি, যতক্ষণ না তাদের নেতারা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব দিতে পারেন।
৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে আসার সময় ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। প্রথমে সময়সীমা ছিল ২১ এপ্রিল রাত ৮টা। পরে ট্রাম্প জানান এটি ওয়াশিংটন সময় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। তিনি আগে বলেছিলেন যুদ্ধবিরতি আর বাড়াবেন না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাড়ান। অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার মঙ্গলবার বলেন, পাকিস্তান স্ট্যান্ডার্ড টাইম অনুযায়ী ২২ এপ্রিল ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা ছিল।