Image description

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ফের ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হুংকার ছেড়ে বলেছেন, বাংলা জিতে দিল্লিকেও টার্গেট করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আসানসোলের চুরুলিয়া সংলগ্ন এলাকায় এক জনসভা থেকে ভাষা, সংস্কৃতি ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিজেপিকে নিশানা করেন তিনি।

বাংলা ভাষাকে ‘বিদেশি’ বলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেছেন, “যে ভাষায় বাঙালি আন্দোলন করেছে, ভারতের স্বাধীনতার বীজ রোপণ হয়েছে, আজ সেই ভাষাকেই অপমান করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলামকেকে ‘কমিউনাল’ বলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। নজরুলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “যিনি শ্যামা সংগীত লিখেছেন, তার মতো সম্প্রীতির নজির দেখাতে পারবে?”

নজরুলের স্মৃতিরক্ষায় রাজ্য সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মমতা।

তিনি বলেন, অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—বিভিন্ন ক্ষেত্রে কবিকে যথাযোগ্য সম্মান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতা আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুলের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

 

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করে মমতা বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বললেই অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে। অথচ বিজেপি বাইরে থেকে লোক এনে রাজ্যে ঢোকাচ্ছে—তারা কি অনুপ্রবেশকারী নয়?” 

সীমান্ত নিরাপত্তা কেন্দ্রের হাতে বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।

ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বাংলাকে দখল করার জন্য।” 

এর পেছনে ভবিষ্যতে এনআরসি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আসামের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল এবং ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। তবে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার থাকতে পশ্চিমবঙ্গে কোনো ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না।”

নির্বাচনকে ‘অস্তিত্বের লড়াই’ আখ্যা দিয়ে মমতা বলেছেন, “এই ভোট ঠিক করবে বাংলার মানুষ, সংখ্যালঘু ও ভাষার ভবিষ্যৎ।” 

একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করে পরোক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও আক্রমণ করেন তিনি।

সবশেষে জনতার উদ্দেশে মমতার বার্তা, “এই লড়াই চলবে। আমরা লড়ব, গড়ব এবং জিতব। বাংলা জিতে দিল্লিকেও টার্গেট করা হবে।”