Image description

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক রচিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল। চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে নাসার আর্টেমিস ২ মিশনের নভোচারীদের পৃথিবীতে ফেরার কথা রয়েছে শুক্রবার (১০ এপ্রিল)। এরই মধ্যে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করার পর চন্দ্র অভিকর্ষকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর দিকে যাত্রা শুরু করেছেন তারা।

 

নাসা জানিয়েছে, শুক্রবার চার নভোচারীসহ মহাকাশযান ওরিয়ন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে। আবহাওয়া দপ্তরের বরাতে সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, নভোচারীদের ফেরার সময় আবহাওয়াও প্রায় অনুকূল থাকবে।

 

আর্টেমিস ২ মিশনের মূল লক্ষ্য চাঁদে অবতরণ করা ছিল না, বরং এটি ছিল মহাকাশে মানুষের সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষা। গত কয়েক দশকের মধ্যে আর্টেমিস ২-এর নভোচারীরাই পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরের পথ ভ্রমণ করলেন।

 

ওরিয়ন মহাকাশযানের লাইফ সাপোর্ট, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা পরীক্ষার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্র অভিযানের পথ সুগম হলো, বলছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

 

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় যানটি প্রচণ্ড তাপ ও ঘর্ষণ মোকাবিলা করবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্যারাসুট ব্যবহারের মাধ্যমে এর গতি কমিয়ে আনা হবে এবং শেষ পর্যন্ত মহাসাগরের বুকে অবতরণ করবে।

 

আর্টেমিস ২-এর সফল অভিযান প্রমাণ করবে, মানুষ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ পেরিয়ে আরও দূর পর্যন্ত নিরাপদে ভ্রমণ করতে সক্ষম। এই মিশনের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই নাসা তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ‘আর্টেমিস-৩’-এর পরিকল্পনা করবে, যার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখবে মানুষ।

 

পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ হলো পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে ১৬০ থেকে দুই হাজার কিলোমিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা এলাকা। এটি মূলত ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস), কৃত্রিম উপগ্রহ এবং দ্রুত যোগাযোগের স্যাটেলাইটগুলোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এই কক্ষপথে অবস্থান করা স্যাটেলাইটগুলো প্রায় ৯০ থেকে ১২০ মিনিটে একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

 

২০২২ সালের ডিসেম্বরে মানববিহীন নভোযানে আর্টেমিস ১ মিশন সম্পন্ন হয়। ২০২৪ সালের শুরুতে নাসা জানায়, ২০২৫ সালের আগে মহাকাশচারীসহ কোনো চন্দ্র অভিযান সম্ভব নয়। অবশেষে ২০২৬ সালে বাস্তবায়িত হলো সেই অভিযান।