লেবাননের সরকার সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
আলজাজিরার লেবানন সংবাদদাতাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত ছয় সপ্তাহে লেবাননের ওপর যে তীব্র ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে হিজবুল্লাহ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, তারা কখনোই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবে না। এর ফলে এই সংলাপে তাদের অন্তর্ভুক্তি হবে না।
এখন প্রশ্ন হলো, ইসরায়েল এই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া জানায় সেটি দেখার বিষয়। আগে দেশটি এমন আলোচনায় অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখায়নি যেখানে হিজবুল্লাহ যুক্ত নয়।
এদিকে লেবাননে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পরও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই হামলা অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা শক্তি, নির্ভুলতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘যারা ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে কাজ করবে, আমরা তাদের ওপর আঘাত হানব।
উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর গতকাল বুধবার সবচেয়ে বড় হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং ১১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে।
মৃতের সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল বৈরুতে, যেখানে ৯১ জন নিহত হয়েছেন। তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মৃতের সংখ্যা ১৮২ জন বলে জানিয়েছে এবং বলেছে যে এটি চূড়ান্ত সংখ্যা নয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সমন্বিত হামলাটি চালিয়েছে। ১০ মিনিটের মধ্যে বৈরুত, বেকা উপত্যকা ও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।