Image description

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই উপকূলে ইরানি হামলার শিকার হয়েছে কুয়েতের বিশাল আকৃতির অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘আল সালমি’। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

 

ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী পরিচালিত ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় সময় রাত ১টার কিছু পরে দুবাই থেকে প্রায় ৩১ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে ‘আল-সালমি’ নামক এই জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়।

 

জাহাজটির মালিক ও বাণিজ্যিক পরিচালক প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, হামলার ফলে জাহাজটির কাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং ডেক জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সময় ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) শ্রেণির এই দানবীয় জাহাজটি সম্পূর্ণ তেল বোঝাই ছিল।

 

সামুদ্রিক তথ্য প্রদানকারী সংস্থা মেরিটাইম অপ্টিমার মতে, ৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৬০ টন ধারণক্ষমতার এই জাহাজটি থেকে তেল নিঃসরণ শুরু হলে তা পারস্য উপসাগরে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাতে পারে।

 

দুবাই মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাঝরাত থেকে এখনও পর্যন্ত তাদের দমকল কর্মীরা জাহাজটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, জাহাজে থাকা ২৪ জন ক্রু সদস্যের সবাই সুরক্ষিত আছেন এবং তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

এই হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো যখন পুরো জিসিসি অঞ্চলে উত্তেজনা তুঙ্গে। একই দিনে সৌদি আরবের জ্বালানি সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। দুবাইয়ের উপকূলে এই মাপের একটি সুপার-ট্যাংকারে হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

কর্তৃপক্ষ এখনো হামলার সঠিক উৎস নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠে তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়া রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

 

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোতে গত কয়েক ঘণ্টায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে। সৌদি আরবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে ১০টির বেশি ড্রোন ও নয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এগুলোর অধিকাংশই ছিল সৌদি আরবের পূর্ব প্রদেশকে লক্ষ্য করে, যেখানে দেশটির ৯০ শতাংশ জ্বালানি স্থাপনা অবস্থিত। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি প্রিন্স সুলতান অবস্থিত আল-খারজ গভর্নরেট ও রাজধানী রিয়াদ এলাকাতেও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।