Image description

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, “গ্রেটার ইজরাইল এবং অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার জন্য আতংকবাদী ইরানের পতন ঘটাতে হবে।”

ভিডিওটিতে হিন্দি ভাষায় দেওয়া তার একটি বক্তব্য প্রচার করা হয়। তাকে হিন্দি ভাষায় বলতে দেখা যায়, “কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে ইরান যুদ্ধে ভারত কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? ভারতের বিষয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে আমরা ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। ইসরায়েল এবং ভারতের লক্ষ্য একই—ইসরায়েলকে 'গ্রেটার ইসরায়েল' হতে হবে এবং ভারতকে 'অখণ্ড ভারত' হতে হবে। ইরানের মতো সন্ত্রাসী রাষ্ট্রগুলোর পতন হলেই কেবল ভারত পাকিস্তানকে পরাস্ত করার সুযোগ পাবে। এই আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা তো কোনো যুদ্ধ ছাড়াই অখণ্ড ভারতের অংশ হয়ে যাবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পাকিস্তান, আর ইরানের ধ্বংস ছাড়া এই লক্ষ্য বাস্তবে পরিণত হতে পারে না। ইরানকে তার সন্ত্রাসবাদের ফল ভোগ করতে হবে।”

এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে

তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের অডিওটি আসল নয়। অন্য একটি ভিডিওতে ভুয়া অডিও সংযুক্ত করে ভিডিওটি তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে। অর্থাৎ ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।

যাচাইয়ে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ ও রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ভিডিওটির সঙ্গে মিলে এমন হুবহু একটি ভিডিও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ANI-এর এক্স অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায়, যা গত ১২ মার্চ পোস্ট করা হয়। ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এনএক্সটি সামিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রভাবিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং জ্বালানি খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ বক্তব্যে “গ্রেটার ইজরাইল’ বা ‘অখণ্ড ভারত’ প্রতিষ্ঠার জন্য ইরানের পতন” সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য তিনি করেননি।

নরেন্দ্র মোদীর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলেও ভিডিওটি পাওয়া যায়। দেখুন এখানে। 

ভিডিও দুটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূল ভিডিওটির বিভিন্ন ক্লিপ কর্তন করে ও সেগুলো আবার জোড়া দিয়ে ডিপফেক ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। যেমন, মূল ভিডিওর ৩:৪৭ মিনিট থেকে ৩:৪৯ মিনিট পর্যন্ত দৃশ্য ডিপফেক ভিডিওটির ১১ থেকে ১৩ সেকেন্ডের সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া কোনো ভারতীয় বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মোদির এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।