ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলার পর পাল্টা জবাব হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে করে জ্বালানির সংকটে পড়েছে বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে অস্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, জাহাজে লোড করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রির জন্য অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। এর জবাবে দেশটির তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে রাশিয়ার তেলের ওপর অস্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের হুমকি মোকাবিলা করতেও এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ১২ মার্চ পর্যন্ত রাশিয়ার যেসব অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য জাহাজে বোঝাই করা হয়েছে সেগুলো আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাধা ছাড়াই বিশ্বব্যাপী সরবরাহ করতে পারবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইরাক এ সরু সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পাঠায়।
যা বলল রাশিয়া
বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়ার তেলের কোনো বিকল্প নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির বিশেষ অর্থনৈতিক দূত কিরিল দিমিত্রিভ। তিনি বলেছেন, রুশ তেল ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার কোনোভাবেই স্থিতিশীল থাকতে পারে না। টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে দিমিত্রিভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত একটি রূঢ় সত্যকেই স্বীকার করে নিচ্ছে। আর তা হলো— রুশ তেল ছাড়া বিশ্ব জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব নয়।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সম্প্রতি এক বিশেষ অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে সাগরে ভাসমান জাহাজে থাকা রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সাময়িকভাবে কেনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই মার্কিন প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের পরই দিমিত্রিভ এমন মন্তব্য করলেন।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে চার বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করেছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, সমুদ্রের মাঝপথে আটকে থাকা রুশ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার জন্য বিভিন্ন দেশকে ৩০ দিনের বিশেষ লাইসেন্স বা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এর আগে ৫ মার্চ, ভারতের জন্য একইভাবে ৩০ দিনের একটি বিশেষ ছাড় দিয়েছিল মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। ফলে সাগরে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার সুযোগ পায় নয়াদিল্লি।
শীর্ষনিউজ