আগামী সপ্তাহে ইরানে আবারও কঠোর হামলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
জ্বালানি তেলের বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে ‘খুব কঠোর আঘাত’ করবে।
প্রধান এই নৌপথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে আমরা তা করব। তবে, আশা করছি সবকিছু ঠিকঠাকভাবেই চলবে। দেখা যাক কী হয়। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আর কিছু জানাননি।
ফক্স নিউজের ব্রায়ান কিলমিডের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহে আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করতে যাচ্ছি।
তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ ১৪তম দিনে প্রবেশ করেছে এবং শুক্রবার তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থায় রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে অস্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজে লোড করা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির অনুমতি দিয়ে একটি বিশেষ লাইসেন্স জারি করেছে।
মার্কিন ট্রেজারির অধীনস্থ অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনে আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার জন্য একটি অপ্রত্যাশিত সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ, যার লক্ষ্য বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে ‘সন্ত্রাসী ইরানি শাসনের হুমকি ও অস্থিতিশীলতা মোকাবিলা করতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা’।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জাহাজে বোঝাই করা তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন এই লাইসেন্স প্রযোজ্য হবে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর তেলের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত মজুত থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই এই লাইসেন্স জারি করা হয়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন করা হয়। তাই এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।