Image description

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানকে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধারের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও মারমুখী আচরণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরদিনই প্রক্টরিয়াল বডির সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সহকারী অধ্যাপক ড. নিয়াজ আল হাসান। তবে পদত্যাগপত্রে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ড. নিয়াজ আল হাসান। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত কারণে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিরসন ও ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে দুপুর ১২টা থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় আট ঘণ্টার বেশি সময় উপাচার্যকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।

আন্দোলন চলাকালে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক দফায় চেষ্টা করা হয়। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির একাধিক সদস্যসহ বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময়কার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে কয়েকজন শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়াতে এবং তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এর মধ্যে সহকারী প্রক্টর ড. নিয়াজ আল হাসান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসিবুর রহমান ও ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইনজামাম রাশুকে শিক্ষার্থীদের জোর পূর্বক শরীরে হাত দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্যকে কার্যালয় থেকে বের করে নেওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষক তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ড. নিয়াজ আল হাসান তুলনামূলকভাবে বেশি মারমুখী আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তবে ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্যে ড. নিয়াজ আল হাসান বলেন, ‘সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ঘটনা নিয়ে তিনি ব্যস্ত ছিলেন। আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত জানার সুযোগ তার হয়নি। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগটিতে পাঁচজন শিক্ষক দেওয়ার কথা জানানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘এ সময় ভিসি স্যারসহ অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষকরা সারাদিন না খেয়ে ছিলেন। পাঁচজন শিক্ষক দেওয়ার কথা জানানোর পরও শিক্ষার্থীরা যখন তাদের দাবিতে অনড় থাকেন, তখন ভিসি স্যার তাদের নিচে গিয়ে আন্দোলন করতে বলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর আমি আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলি। তাদের জিজ্ঞেস করি, তারা ভিসি স্যারের দপ্তরে অবস্থান করবেন, নাকি ভিসি স্যারকে অবরুদ্ধ করবেন। একপর্যায়ে ভিসি স্যার যখন বের হতে চাইলেন, তখন একজন শিক্ষার্থী স্যারের কলার ধরে টান দেন। ওই মুহূর্তেই পরিস্থিতি হিট অব দ্য মোমেন্টে চলে যায় এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।’

এরই মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ড. নিয়াজ আল হাসান। পদত্যাগপত্রে তিনি ‘ব্যক্তিগত কারণে’ সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে পদত্যাগপত্র গ্রহণ ও তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সহকারী প্রক্টর হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল। দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষক হিসেবে তার একাডেমিক দায়িত্ব পালন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তবে পদত্যাগপত্রে সোমবারের আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি কিংবা উপাচার্যকে উদ্ধারের সময়কার ঘটনাকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে ব্যক্তিগত কারণের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।

পদত্যাগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক ড. নিয়াজ আল হাসান বলেন, ‘প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি হিসেবে গতকালের ঘটনায় তার আরও সৌজন্যমূলক আচরণ করা উচিত ছিল। আমি মূলত একজন গবেষক, একজন একাডেমিশিয়ান। প্রশাসনিক দায়িত্ব আমার সঙ্গে সেভাবে স্যুট করে না। গতকালের ঘটনার পর থেকেই আমার মনে হয়েছে, এখান থেকে সরে দাঁড়ানোই ভালো হবে।’

এই ঘটনায় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে কথা বলার বিষয়েও তিনি বলেন, ‘আমি আর্কিটেকচার বিভাগের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি। আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলব এবং আমার পক্ষ থেকে যে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে, সে বিষয়েও তাদের সঙ্গে কথা বলব।’