Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে আর্জেন্টিনার ম্যাচ শেষে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত উল্লাসের সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। পা, হাঁটু ও মাথায় আঘাত পেয়েছেন তিনি। তার ব্যবহৃত চশমাটিও ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে আর্জেন্টিনার ম্যাচ শেষে সর্বমিত্র স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে দিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। এ সময় বহিরাগতদের একটি দল হঠাৎ তার বাইকের সামনে চলে আসে। এতে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যান। ঘটনার পর প্রক্টরিয়াল টিম সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে আটক করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যায়। 

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা কামরাঙ্গীরচর থেকে খেলা দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসেছিল। আটক ব্যক্তিদের কেউ শিক্ষার্থী নন; তারা বিভিন্ন দোকানে কাজ করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে একই রাতে ক্যাম্পাসে আরও কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ খোয়া যাওয়ার পাশাপাশি মহসিন হলে এক নারী হেনস্তার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

দুর্ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ‘আজ খেলা শেষে এফ. রহমান হলের সামনে দিয়ে বাইকে আসছিলাম। বহিরাগত কিছু ছেলে উল্লাস করতে করতে আমার বাইকের সামনে এসে পড়ে। গাড়ি থামাবে থামাবে এমন ভাব নিয়ে উল্লাস করছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমি বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হই। পায়ে ও হাঁটুতে কেটেছে, মাথায় আঘাত লেগেছে, চশমা ভেঙে গেছে। যে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে আমি সব সময় কনসার্ন থাকি, সেখানে আমি নিজেই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার! ধন্যবাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

এর আগে দেওয়া আরেক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা অভিযোগ করেন, বারবার দাবি জানানো হলেও বড় ম্যাচগুলোয় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি প্রক্টরিয়াল বডি। তিনি বলেন, কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হলেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী, বিএনসিসি বা স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও সে ধরনের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, ফাইনাল ম্যাচকে সামনে রেখে প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। ফাইনাল ম্যাচের রাতে বহিরাগতদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ রাখার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ঘটনা জানার পরপরই প্রক্টরিয়াল টিম কয়েকজনকে আটক করেছিল। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’