টেলিগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কোথাও কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে যা প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া এবং প্রতারণার অংশ।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক গণমাধ্যমকর্মী বলেন, আপনার ছবি ব্যবহার করে টেলিগ্রামে ‘রেজাল্ট ফিক্স বিডি’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এইচএসসির প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতি প্রশ্নের জন্য এক হাজার টাকা এবং ‘ফুল প্যাকেজের’ জন্য আট হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাইবার ক্রাইম ননস্টপ চলছে। আমি সাংবাদিক কাছে আবেদন জানাব, আপনারা যখন সংবাদ করবেন, তখন স্পষ্টভাবে বলবেন—এগুলো ভুয়া। অনেক সময় এমনভাবে সংবাদ করা হয়, যেন প্রশ্নপত্র আউট হচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা যায়।
তিনি বলেন, যেটি সত্য নয়, সেটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়, যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ধারণা তৈরি হয়। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষাবিটে কর্মরত সাংবাদিকরা জানেন, কোথাও কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন করলে প্রতারকদের অপতৎপরতা অনেকটাই ব্যর্থ হবে। মানুষ যদি নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, তাহলে তারা অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন কেনার ফাঁদে পা দেবে না।
তিনি আরও বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে প্রতারণায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।