Image description
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চীনের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান Tsinghua University -এর স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অংশগ্রহণে আজ ১৯ মে ২০২৬ তারিখে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শিংহুয়া ইউনিভার্সিটির বেইইয়ুয়ান হলে অনুষ্ঠিত এই সংলাপ অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন এবং শিংহুয়া ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট Miao Shuo। ডাকসুর পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম।
সংলাপে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গ্রুপ ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়। আলোচ্য বিষয়সমূহ ছিল:
(1) Youth Participation and Campus Governance: Case studies of campus governance by Tsinghua and Dhaka University students unions
(2) Youth Development and Artificial Intelligence: The impact of Al on interpersonal communication and academic/career development
(3) Youth Mission and Opportunities of the Era: How young people can realize personal value in the process of national development.
উক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হায়দার, ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী এবং সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জোবায়ের।
সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন শিংহুয়া ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মিয়াও শুও, ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদিক কায়েম এবং ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ।
আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, প্রযুক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক আদান-প্রদান, পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি, যুব নেতৃত্বের বিকাশ এবং ঢাকা-বেইজিং সহযোগিতা জোরদারের বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম “Dhaka–Beijing Youth Fellowship” চালুর প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের যৌথ উন্নয়ন ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ ও চীনের শতাব্দীব্যাপী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এই সম্পর্ক কেবল গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা ও তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই তা আরও গভীর ও টেকসই হতে পারে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, বৈশ্বিক বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডাকসুর পক্ষ থেকে জুলাই ২০২৬ আন্তর্জাতিক জুলাই কনফারেন্স আয়োজনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে শিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
শিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট মিয়াও শুও ডাকসুর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গ্লোবাল ইয়ুথ ডায়লগে আমন্ত্রণ প্রদান করেন। অনলাইন এবং অফলাইনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ যাতে আরও জোরালোভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় এ ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে দুই পক্ষের মধ্যে সৌজন্য স্মারক (সুভ্যেনির) বিনিময় এবং গ্রুপ ফটোর মাধ্যমে সংলাপের সমাপ্তি ঘটে। শিংহুয়া ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে মিয়াও শুও ডাকসু ভিপির হাতে স্মারক তুলে দেন। পরবর্তীতে ডাকসু ভিপির নেতৃত্বে ডাকসুর প্রতিনিধি দল শিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্মারক প্রদান করে।
ডাকসুর প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মিনহাজ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা, মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জাকারিয়া, আন্তর্জাতিক সম্পাদক খান জসীম, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
চীন সরকারের প্রতিনিধি এবং শিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন Embassy of the People's Republic of China in Bangladesh এর প্রতিনিধি, Ministry of Foreign Affairs of the People's Republic of China এর দুজন প্রতিনিধি, The Center for Global Competence Development (CGCD) of Tsinghua University এর পরিচালক এবং সহকারী পরিচালক, শিংহুয়া ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এর প্রতিনিধিবৃন্দ এবং Tsinghua Global Youth Dialogue (TGYD) এর প্রতিনিধিবৃন্দও এ সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।
এই সংলাপ বাংলাদেশ ও চীনের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।