কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের লেম্বুরবন এলাকার পরিত্যক্ত একটি দোকানের নিচের গর্ত থেকে ১৬৩টি সামুদ্রিক কচ্ছপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের যৌথ উদ্যোগে সেগুলোকে সাগরমুখী নদীর মোহনায় কচ্ছপের ছানাগুলো অবমুক্ত করা হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে স্থানীয়রা প্রথমে বালুর নিচে ছোট প্রাণীর নড়াচড়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে দেখা যায়, দোকানের নিচে বালুর গর্তে অসংখ্য কচ্ছপের বাচ্চা আটকে আছে। খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপরা’র সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চাগুলো উদ্ধার করেন।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফিশফ্রাই দোকান খুলতে গেলে বিষয়টি প্রথম দেখতে পান স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. বায়েজিদ। তিনি বালুর ভেতরে নড়াচড়া দেখে বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে উদ্ধারকৃত কচ্ছপের ছানাগুলোকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে মুক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন ‘উপরা’র আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু জানান, উদ্ধার হওয়া ছানাগুলো অলিভ রিডলি প্রজাতির। তিনি জানান, কচ্ছপ উদ্ধার হওয়া স্থান থেকে ডিমের খোসা পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগে মা কচ্ছপ সেখানে ডিম পেড়েছিল এবং প্রাকৃতিকভাবে ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো বের হলেও পরিত্যক্ত দোকানের নিচে আটকে পড়ে তারা সমুদ্রে ফিরতে পারেনি।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, কুয়াকাটা উপকূল সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অলিভ রিডলি কচ্ছপ সাধারণত নিরিবিলি সৈকতে ডিম পাড়ে। এ ধরনের প্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয়দের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, উদ্ধারকৃত ছানাগুলো নিরাপদে সমুদ্রে অবমুক্ত করা হয়েছে। সামুদ্রিক কচ্ছপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাওছার হামিদ বলেছেন, ‘এটি পরিবেশ সংরক্ষণে একটি ইতিবাচক ঘটনা। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সচেতন মানুষের ভূমিকা প্রশংসনীয়। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’