Image description

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেছেন, আগে উপাচার্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে একটি বলয় থাকত,যার ফলে প্রশাসনিক কাজে ব্যঘাত ঘটত। তবে এখন থেকে এধরণের কোনো বলয় থাকবে না। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।  

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবস থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করে আসছেন। এরই অংশ হিসেবে সকল শিক্ষকের সঙ্গে এই সভা আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো উপাচার্য নিয়োগের পরপরই সকল শিক্ষকের সঙ্গে একই মিলনায়তনে এ ধরনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শিক্ষকদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, ‘অতীতে একাধিক উপাচার্য দায়িত্ব পালন করলেও বিশ্ববিদ্যালয় কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। পূর্বে উপাচার্যকে কেন্দ্র করে একটি বলয় সৃষ্টি হতো, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতো—তবে তার আমলে এমন কোনো বলয় থাকবে না।’ 

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা ও ফলাফল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে অযাচিত ও অযৌক্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।

উপাচার্য আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সম্পূরক বৃত্তি এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ এগিয়ে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেশনজট নিরসনে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। নিয়মিত সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সকল শিক্ষককে একত্রিত করে এ ধরনের আয়োজন বর্তমান উপাচার্যের নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছে। উপাচার্যের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘নবনিযুক্ত উপাচার্যের সুদক্ষ নেতৃত্ব ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট যদি পৃথক ইউনিট হিসেবে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে, তবে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে গ্লোবাল মানে উন্নীত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, উপাচার্য হিসেবে তাঁর নিয়োগ যেমন আনন্দের, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রত্যাশাও অনেক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রথম সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন।’

সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী, সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অণিমা রায়, লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আয়শা জাহান এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মিজানুর রহমান।

সভাটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ ও সমন্বিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং সকল শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।