Image description

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সিন্ডিকেট সভাসহ সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরের দপ্তরে গিয়ে এ ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ ও তার অনুসারীরা প্রক্টরের দপ্তরে প্রবেশ করে তাকে সব দাপ্তরিক কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রারের দপ্তরে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম উল্লেখ করে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা বন্ধ রাখার হুমকি স্বরূপ নির্দেশ দেন তারা। এ ছাড়া উপাচার্যের দপ্তরে গিয়ে সব ধরনের আপগ্রেডেশন বোর্ড বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম বলেন‚ ‘আজ (সোমবার) দুপুরে ছাত্রদলের মোস্তাফিজুর রহমান শুভসহ কয়েকজন আমার অফিসে এসে আমাকে হুমকি দিয়েছে। তারা বলেছে, আমি যেন সবধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখি।’

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামালের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। রেজিস্ট্রার থেকে বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিবেদককে পরামর্শ দেন তিনি।

এ বিষয়ে সিন্ডিকেটের সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছাত্রদলের কয়েকজন এসে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের দোহাই দিয়ে আমাকে হুমকি দিয়ে গেছে, যাতে সিন্ডিকেট সভার আয়োজন না করি। পূর্বেও তিনবার তারিখ পিছানো হয়েছে। আগামী মাসের ১৫ তারিখে আমাদের সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেটা বন্ধ রাখার জন্য তারা হুমকি দিয়ে গেছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নোটিশ পাঠিয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের অফিসিয়াল কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।’

কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কথায় আপনারা সিন্ডিকেট সভা বন্ধ রাখবেন কি না, জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন‚ ‘আমরা চাই না ক্যাম্পাসে কোনো ক্যাওয়াস (হট্টগোল) তৈরি হোক। তা ছাড়া সিন্ডিকেট সভায় অতিথি শিক্ষকও থাকেন, তাদের সঙ্গে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে। এমনিতেই শিক্ষার্থীরা একাডেমিক্যালি পিছিয়ে আছে। যদি তারা কোনো ক্যাওয়াস সৃষ্টি করে আবারও শিক্ষার্থীদের সেশনজটে ফেলে দেয়‚ সেই শঙ্কা থেকেই আমরা বন্ধ রাখতে চাচ্ছি।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী বলেন, “ছাত্রদলের ৪-৫ জন ছেলে আমার কাছে এসেছিল। এ সময় তারা সিন্ডিকেট সভা ও সব ধরনের আপগ্রেডেশন বোর্ড বন্ধ রাখার কথা বলে। তারা বলে, ‘আপনাকে আগেও বলেছি সিন্ডিকেট সভা না দিতে। তারপরেও আপনি দিচ্ছেন। আপনাকে সকল আপগ্রেডেশন বন্ধ রাখতে বলেছি। আমরা বলেছি, বোর্ড হবে না, মানে হবে না।’”

অভিযোগের বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এসব কিছু বলিনি। আমাদের কেউ এসবের সঙ্গে জড়িত না। আপনাদের এসব কে বলেছে বলেন।’

কুবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন‚ ‘এ বিষয়ে আমি জানি না। আমি ক্যাম্পাসে নেই। যারা গেছে, তাদের সাথে কথা বলে তারপর বলতে পারব।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এর আগে বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই কুবি ছাত্রদলের একাংশের নেতারা প্রশাসনকে কয়েক দফায় পদত্যাগ করার চাপ দেন এবং সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।

এই বিষয়ে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, ‘সরকার গঠনের পর ছাত্রদলের অনেকেই পদ ব্যবহার করে বিভিন্ন চাঁদাবাজি করার অভিযোগ পাচ্ছি। সিনিয়রদের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। তাই কেউ কিছু বলছে না। সরকার গঠনের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য প্রশাসনকে কয়েক দফা হুমকি দিচ্ছে। যেটা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ছাত্রদলের ইমেজ নষ্ট করতেছে। তবে প্রশাসন যদি অনৈতিকভাবে কোনো কিছু করে আমরাও এটার বিরুদ্ধে অবস্থান নেব।’

তারা আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে নতুন করে প্রশাসনিক লোকজন নিয়োগ দিচ্ছে। আমরাও চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন প্রশাসক নিয়োগ হোক। আমরা চাই না গুটি কয়েক ব্যক্তির স্বার্থের জন্য জিয়াউর রহমানের সংগঠন ছাত্রদলের বদনাম হোক।’