Image description

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে অধিকাংশ পদে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীরা। তারা জকসুর ২১টি পদের মধ্যে ভিপি, জিএস, এজিএসসহ ১৬টি পদে জয় পেয়েছেন। এরই মধ্যে এই ফল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী কালবেলাকে বলেন, জকসু নির্বাচনে শিবিরের জয়ের ক্ষেত্রে সংগঠনটির নিজস্ব ভোটব্যাংক, সাংগঠনিক পরিচিতি, দক্ষতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে রাজনীতি শুরু করার পর স্বাস্থ্যসেবা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ ভোটারদের মধ্যে তাদের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে। মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের সম্পর্কে ইতিবাচক ভাবমূর্তিই ছিল জয়ের প্রধান নিয়ামক। বিশেষ করে ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক শক্তি তাদের জয়ের অন্যতম কারণ।

৫ আগস্ট-পরবর্তী ভূমিকা: ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের পরই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মন জয়ে তৎপর হয় শিবির। মেধাবী সংবর্ধনা, ক্যাম্পাসে ও ছাত্রী হলে নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছে। অন্যদিকে, ছাত্রদল শক্তিশালী হলেও দলীয় কোন্দলে বিপর্যস্ত ছিল পুরোটা সময়। সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা নিয়ে দলীয় কোন্দল ও বিভাজন আরও বৃদ্ধি পায়। শিক্ষার্থীদের মন জয়ে ছাত্রদলের সমন্বিত কোনো কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি। কিছু প্রোগ্রাম আয়োজন করলেও তাতে দলের সব গ্রুপের সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি ছিল বলে মনে করছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, শিবির একতাবদ্ধভাবে তাদের শক্তি সামর্থ্যের পুরোটা কাজে লাগিয়েছে।

নিজেদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণা, নারীদের নিরাপত্তা ও পোশাকের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার শঙ্কার বিষয়টিকে বিবেচনায় নেয় সংগঠনটি। নানা পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের এসব ধারণা ও শঙ্কার বিষয়গুলো দূর করতে কাজ করেন তারা। জকসু নির্বাচনে সমন্বিত শিক্ষার্থী প্যানেলে ৪ নারী প্রার্থী রাখা হয়। সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও প্রার্থী করা হয়। এগুলো ভোটারদের মধ্যে তাদের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে। মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের সম্পর্কে ইতিবাচক ভাবমূর্তিই ছিল জয়ের প্রধান নিয়ামক।

যা বলছেন ছাত্রদলের নেতারা: শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতা বলেছেন, গ্রুপিংয়ের কারণে অনেক পরিচিত মুখকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। জুনিয়রদের প্রার্থী করা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলেও তাদের মধ্যে খুব বেশি পরিচিত মুখ ছিল না। ৫ আগস্টের আগে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে রাজনীতি করতে না পারায় সঠিকভাবে নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। অনেক প্রার্থীর যোগাযোগ অদক্ষতাও ভুগিয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওএমআর যন্ত্রে ভোট গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তবে দুটি যন্ত্রে দুই রকম তথ্য দেখানোর কারণে গণনা স্থগিত রাখা হয়। এরপর প্রার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনা করে প্রথম ২৭৮টি ব্যালট পেপার হাতে গুনে পরে যন্ত্রে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয়। বুধবার রাত ১২টার দিকে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করে কমিশন।