গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান এবং তাঁর স্ত্রী রোজা আহমেদকে ঘিরে বর্তমানে বিনোদন অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে ভাঙনের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। গত বছরের শুরুতে বিয়ের ঘোষণা দেওয়া এই দম্পতি চলতি বছরের শুরুতেই আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে তাহসান বলেন, “আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে, এটা সত্য। আমরা আর একসঙ্গে থাকছি না। বেশ কয়েক মাস ধরেই আলাদা আছি। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।”
এই বক্তব্য প্রকাশের পর থেকেই সংবাদমাধ্যম, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ফোনকল ও বার্তায় বিপর্যস্ত তিনি। এমন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ক্লান্ত তাহসান বলেন, ‘প্রচুর সংবাদ হচ্ছে, প্রচুর ফোন কল আসছে। আমি একটু শান্তি চাই। আমাকে একটু বাঁচতে সাহায্য করুন।’
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাইয়ের শেষ দিক থেকেই তাহসান ও রোজা একসঙ্গে থাকছেন না। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে শুরু হয় নানা আলোচনা–সমালোচনা। ‘দ্বিতীয় বিয়েও কেন ভাঙল’—এই প্রশ্নে সরগরম হয়ে ওঠে নেটদুনিয়া।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাহসান খানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন ধরেই ফেসবুক ব্যবহারে অনাগ্রহী ছিলেন তিনি। গত দুই বছরে খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না—মাসে দু-একটি পোস্ট, তাও মূলত কাজসংক্রান্ত।
অবশেষে গত বছর ফেসবুক পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহসান। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন তো ফেসবুক ব্যবহার করেছি। এটা এমন কিছু নয় যে ব্যবহার করতেই হবে। এখন মনে হচ্ছে, এটা হয়তো আমার জন্য ভালো নয়। আমাদের নিয়ে নানা গুজব, মিথ্যা খবর ছড়ানো হয়। একবার হাসপাতালে গেলে একজন অভিনন্দন জানালেন—আমি নাকি বাবা হয়েছি! এসব ভুয়া খবর অনেক সময় মানসিক ট্রমার মধ্যেও নিয়ে যায়।’
সংগীতশিল্পী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় তাহসান খান। নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বিস্তৃত হয়। পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মাত্র চার মাসের পরিচয়ের পর রোজা আহমেদকে বিয়ে করেন তাহসান খান। রোজা একজন পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট। এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে তিনি ব্রাইডাল মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। নিউইয়র্কে তাঁর নিজস্ব একটি মেকআপ প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।