ছোটপর্দায় তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জনের পর সাবিলা নূর এবার বড়পর্দায়ও নিয়মিত হচ্ছেন। ঢালিউড কিং শাকিব খান–এর বিপরীতে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত চলচ্চিত্র রক্সটার। ঈদুল ফিতরেও বড়পর্দায় তার উপস্থিতি ও সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার কোরবানির ঈদে নতুন সিনেমা নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি।
সিনেমা মুক্তির দিন নির্মাতা আজমান রুশো–কে নিয়ে দর্শকদের সঙ্গে বসে ছবিটি দেখেন সাবিলা। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেন নিজের ক্যারিয়ার, চরিত্র প্রস্তুতি এবং চলচ্চিত্রটির ভিন্নধর্মীতা নিয়ে।
ক্যারিয়ারে ছকবাঁধা চরিত্রের বাইরে গিয়ে বৈচিত্র্যময় কাজ করার প্রসঙ্গে সাবিলা স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি সবসময় ডিফরেন্ট ডিফরেন্ট জিনিস ট্রাই করতে চাই। আমি যখন ‘তাণ্ডব’ করেছি, তখন আমার অডিয়েন্সও এক্সপেক্ট করেনি যে আমাকে ‘লিচুবাগান’ টাইপের একটা গানে দেখবে। আমি ওই ইমেজটা ব্রেক করতে চেয়েছি। এরপর যখন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ করেছি, সেটাও ‘তাণ্ডব’ থেকে একদম আলাদা ছিল। আমি চেয়েছিলাম আমার তৃতীয় সিনেমাটাও একদম ভিন্ন ধরনের কোনো চরিত্র হোক, যেখানে দর্শক আমাকে নতুনভাবে দেখবে। ‘রক্সটার’-এ সেটাই করার চেষ্টা করেছি।”
চলচ্চিত্রটিতে নিজের চরিত্র ‘মিরা’র প্রস্তুতি ও টিমওয়ার্ক প্রসঙ্গে সাবিলা নূর বলেন, “মিরার জার্নির কথা যদি বলি, আসলে আমরা খুব বেশি সময় পাইনি প্রিপারেশন নেওয়ার। মনে হয় দুই বা তিন সপ্তাহের মতো সময় পেয়েছি। তবে এই অল্প সময়ের মধ্যেই পরিচালক, ডিওপি, আর্ট এবং বিশেষ করে কস্টিউম, মেকআপ ও হেয়ার টিমের কোলাবরেটিভ এফোর্টের কারণেই মিরার এই রূপটি পর্দায় ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। তাই মিরার পুরো জার্নিটা আমি আমার টিমকে ডেডিকেট করতে চাই।”
সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা সবসময়ই খুব ভালো লাগার বিষয়। উনি ভীষণ ডেডিকেটেড এবং ডিসিপ্লিনড। একজন কো-আর্টিস্ট হিসেবে উনি খুবই সাপোর্টিভ।”
ট্রেলার দেখে অনেকের রণবীর কাপুর অভিনীত বলিউড সিনেমা রকস্টার–এর সঙ্গে তুলনা করার বিষয়েও কথা বলেন সাবিলা। তিনি বলেন, “রণবীর কাপুরের ‘রকস্টার’ তো কাল্ট ক্লাসিক। ‘রকস্টার’ নিয়ে ভাবলেই সবার মাথায় ওই সিনেমার কথা আসে। কিন্তু আমাদের ‘রক্সটার’-এর গল্প পুরোপুরি আলাদা। এখানে একটা মানুষের জীবন, তার মিউজিক জার্নি এবং সেই পথের কিছু কঠিন বাস্তবতার গল্প দেখানো হয়েছে। ট্রেলার দেখে হয়তো একটা ভাইব এক মনে হতে পারে, কিন্তু পুরো সিনেমা দেখলে বুঝবেন এর সঙ্গে ওই সিনেমার কোনো মিল নেই। এটা আমাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপটে তৈরি একেবারে নতুন গল্প।”
কোরবানির ঈদের ব্যস্ততার মধ্যেও দর্শকদের সিনেমা হলে এসে ছবিটি দেখার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সাবিলা বলেন, “যারা আমাদের মেগাস্টারের ফ্যান, তারা তো সিনেমাটি দেখবেই। পাশাপাশি আমাদের টিম একটা ভিন্নধর্মী গল্প বলার চেষ্টা করেছে। আমরা যদি চাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও ডিফরেন্ট ডিফরেন্ট জনরার সিনেমা তৈরি হোক, তাহলে আমাদের ‘রক্সটার’ দেখা উচিত।”
বড়পর্দার এই নতুন যাত্রা নিয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিটি সিনেমা মুক্তির আগেই আমি ভীষণ নার্ভাস থাকি। তাই কিছুটা নার্ভাস তো অবশ্যই, তবে নার্ভাসনেসের সঙ্গে আমি এক্সাইটেডও; কারণ নতুন কিছু দেখতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে।”