কান চলচ্চিত্র উৎসবে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ডেনিশ নির্মাতা নিকোলাস উইন্ডিং রেফন। বললেন, শিল্পই এখন পৃথিবীর শেষ ভরসা।
দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন চলচ্চিত্র ‘হার প্রাইভেট হেল’ নিয়ে ফিরে এসে তিনি যেন আগের মতোই দর্শকদের দুই ভাগে ভাগ করে দিলেন—কেউ মুগ্ধ, কেউ বিস্মিত।
কান চলচ্চিত্র উৎসবে গতকাল মধ্যরাতে প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয় তার এ চলচ্চিত্রটির। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই লালগালিচায় হাজির হন রেফন ও তার তারকারা। প্রদর্শনী শেষে টানা সাত মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দেন দর্শক। সেই মুহূর্তে প্রধান অভিনেত্রী সোফি থ্যাচার আবেগে কেঁদে ফেলেন, আর রেফনকে দেখা যায় হলজুড়ে হাঁটতে হাঁটতে দর্শকদের উজ্জীবিত করতে।
করতালি থামার পর মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে রেফন জানান, এই ছবিটি তার জন্য খুবই ব্যক্তিগত। তিনি বলেন, “কয়েক বছর আগে আমি ২৫ মিনিটের জন্য মৃত ছিলাম। পরে আমাকে বিদ্যুতের শক দিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়।” তিনি আরও বলেন, “এটা মানুষকে বদলে দেয়। এখন আমি আবার বেঁচে আছি, আর আমার হাতে আরও ২৫ বছর আছে। আমি সেই সময়টুকু পুরোপুরি বাঁচতে চাই।”
নিকোলাস উইন্ডিং রেফন
এরপর সিনেমার শক্তি নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন রেফন। তার ভাষায়, “এখন যখন রাজনীতিকরা পৃথিবীকে নষ্ট করে ফেলেছে, দেশগুলো ধ্বংস করেছে, আমাদের অর্থ কেড়ে নিয়েছে—তখন শেষ ভরসা শুধু শিল্প।” তিনি আরও বলেন, “সবাই যখন একে অন্যের সঙ্গে লড়ছে, তখন মানুষকে একত্রে বসাতে পারে শুধু সিনেমা।”
নিয়ন আলোয় মোড়া মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ‘হার প্রাইভেট হেল’-এ সোফি থ্যাচার অভিনয় করেছেন এক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত চলচ্চিত্র তারকার চরিত্রে। অন্যদিকে চার্লস মেলটন অভিনয় করেছেন এক সেনা সদস্যের ভূমিকায়, যার মেয়ের নিখোঁজ হওয়া তাকে প্রতিশোধের পথে ঠেলে দেয়।
এটি রেফনের ২০১৬ সালের ‘দ্য নিয়ন ডেমন’–এর পর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে তিনি টেলিভিশনের জন্য ‘টু ওল্ড টু ডাই ইয়াং’ এবং ‘কোপেনহেগেন কাউবয়’ নির্মাণ করেন।
জানা গেছে, ‘হার প্রাইভেট হেল’ আগামী ২৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।