আমাদের শরীর কখনো হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে না বরং আগে থেকেই নানা ছোট সংকেত দিয়ে সতর্ক করে। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় এসব লক্ষণকে গুরুত্ব দিই না। অথচ ঠিক সময়ে খেয়াল করলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। ভারতীয় পুষ্টিবিদ ও সার্টিফাইড ডায়েটিশিয়ান কিরণ কুকরেজা এমন ৭টি গুরুতর স্বাস্থ্য সতর্ক সংকেতের কথা জানিয়েছেন, যেগুলো কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
১. বুকের তীব্র ব্যথা, বাম হাতে ছড়িয়ে পড়া
সম্ভাব্য কারণ: হার্ট অ্যাটাক
হঠাৎ চাপধরানো বুকব্যথা যদি বাম হাত, গলা বা চোয়ালে ছড়িয়ে যায়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
২. মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া বা হাত-পায়ে দুর্বলতা
সম্ভাব্য কারণ: স্ট্রোক
হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া, কথা বলতে সমস্যা বা শরীরের এক পাশে দুর্বলতা দেখা দিলে এটি স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
৩. মল বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা
সম্ভাব্য কারণ: কিডনি বা কোলনের সমস্যা
মল বা প্রস্রাবে অস্বাভাবিক রঙ বা রক্ত দেখা গেলে সেটিকে কখনোই হালকাভাবে নেয়া ঠিক নয়।
৪. অকারণে ওজন কমে যাওয়া
সম্ভাব্য কারণ: ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা ক্যানসার
কোনও চেষ্টা ছাড়াই ওজন দ্রুত কমে গেলে তা শরীরের ভেতরের রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
কোনও চেষ্টা ছাড়াই ওজন দ্রুত কমে গেলে তা শরীরের ভেতরের রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
৫. বমি বা কাশির সঙ্গে রক্ত
সম্ভাব্য কারণ: অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, আলসার বা ফুসফুসের রোগ
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।
৬. তীব্র পেটব্যথা, সঙ্গে বমি
সম্ভাব্য কারণ: অ্যাপেন্ডিসাইটিস, প্যানক্রিয়াটাইটিস বা অন্ত্রের সমস্যা
অবিরাম পেটব্যথা ও বমি একসঙ্গে হলে এটি গুরুতর হজমজনিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
৭. হঠাৎ কাঁপুনি, ঘাম বা দুর্বলতা
সম্ভাব্য কারণ: রক্তে শর্করা কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)
বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো দ্রুত দেখা দিতে পারে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
এই লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বড় ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস