Image description

দুই সপ্তাহের পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান তাদের আক্রমণ স্থগিত করায় সোমবার তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। এতে একটি কূটনৈতিক সমাধানের আশা জেগেছে, যা চলমান সংঘাতের তীব্রতা কমানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু করার সুযোগ দেবে।

দিনের শুরুতে ৯০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেলের নিচে কিছুক্ষণের জন্য নেমে যাওয়ার পর গ্রিনিচ মান সময় ০৮:০৪টায় ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ০৮ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৫১ ডলারে অবস্থান করছিল। তিন সপ্তাহ ধরে দাম বাড়ার পর উভয় বাজারেই এখন সর্বনিম্ন স্তরে লেনদেন হচ্ছে।

 

এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছিল। পরবর্তী সময়ে এই সংঘাত লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়ে, যা বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে এশিয়ায় তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান, কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আরো কিছুটা সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পিভিএমের বিশ্লেষক জন ইভান্স বলেন, বাজার সব সময় এমন একটি ক্ষেত্র থেকে ভালো খবরের সন্ধান করছে, যা আসলে কোনো ভালো খবর দিচ্ছে না। তবে সামরিক হামলা স্থগিত হওয়াকে একটি উন্নতি বলে মনে হলেও এই অঞ্চল থেকে শিগগিরই তেল সরবরাহ শুরু হবে—এমন কোনো গ্যারান্টি দিচ্ছে না। দাম কেবল তখনই কমতে থাকবে যদি চড়া দামের কারণে পুনরায় তেলের চাহিদা কমে যায়, কোনো সন্দেহজনক মিনি-যুদ্ধবিরতির কারণে নয়।

শিপিং ডেটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, উইকএন্ডে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

এমএসটি মার্কির বিশ্লেষক সল কাভোনিক বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়াটি ধীরগতির এবং আংশিক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ অনেক শিপিং কোম্পানি এখনো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং প্রণালিতে খালি জাহাজ পাঠানোর আগে তারা নিরাপত্তার বিষয়ে আরো নিশ্চিত হতে চাইবে।

এর পাশাপাশি, ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর পর গত রোববার বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরো কমে গেছে। অবশ্য চীনের একটি তৃতীয় সুপারট্যাংকার এই প্রণালি দিয়ে সফলভাবে বের হতে পেরেছে। সোসাইটি জেনারেলের বিশ্লেষকদের অনুমান, লোহিত সাগরের সংকটের সমাধান না হলে প্রতি মাসে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি অন্তত ১০ ডলার করে বৃদ্ধি পাবে।

ইউওবির বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত লোহিত সাগরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার জাহাজ ও তেল শোধনাগারগুলোয় আঘাত হেনেছে, সেহেতু সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার এই ধারাবাহিকতা তেলের দামকে চড়া রাখতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।