গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে ইসলামী ব্যাংককে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে নগদ তারল্য সহায়তার পরিমাণ ৬ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা হলো বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ইসলামী ব্যাংকে সম্প্রতি চেয়ামম্যান হিসাবে খুরশীদ আলমকে নিয়োগের পর সৃষ্ট অস্থিরতা তার অপরাসনের মধ্য দিয়ে কাটতে শুরু হয়েছে। ব্যাংকটি নিয়ে নানামহলে শঙ্কা কিছটা দূর হয়েছে। গ্রাহকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। আর চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবি করা সচেতন গ্রাহক সমাবেশের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা (১৬ জুন) মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ গঠনের দাবিতে গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।
সূত্র জানায়, গত ১ জুন থেকে অনেক গ্রাহক আতঙ্কিত হয়ে ব্যাংকটি থেকে টাকা তুলতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। যা গত রোববার (১৪ জুন) ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তখন কৌশলে চেক ক্লিয়ারিং, তহবিল স্থানান্তর, শাখা এবং এটিএম বুথে নগদ উত্তলন সীমা সীমিত রাখা হয়। তবে চেয়া্রম্যান খুরশীদ আলমসহ বোর্ডের নিয়োগ বাতিল করায় গ্রাহকরে টাকা তোলার চাপ কমতে শুরু করেছে।
আজ ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসন এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরাম গভর্নরের প্রতিনিধির কাছে স্মারকলিপি দেন।
ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যাংকের সংকট সৃষ্টির পেছনে দায়ী অবৈধ চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে অপসারণ করায় তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ধন্যবাদ জানায়। তবে শুধু প্রশাসক বা চেয়ারম্যান নিয়োগ যথেষ্ট নয়; দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, নতুন পর্ষদে সৎ, যোগ্য, পেশাদার এবং গ্রাহকদের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে বা যারা এস আলম গ্রুপের সহযোগী ছিলেন, তাদের পর্ষদে স্থান না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া এস আলম গ্রুপ অবৈধভাবে ও জোরপূর্বক যেসব শেয়ার দখল করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে ফোরামটি।
গত সোমবার (১৫ জুন) ইসলামী ব্যাংক জানায়, যেসকল গ্রাহক ১ জুন থেকে ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এমটিডিআরিএ, এমএসবি, এমএমপিডিএস, এমএসএ হিসাবে প্রি-ম্যাচিউরড অবস্থায় বন্ধ বা নগদায়ন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে উক্ত হিসাব পুনরায় চালু করলে, চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসলামী ব্যাংক সকল খরচ মওকুফ করে উক্ত হিসাব চলমান হিসেবে গণ্য করবে।
খুরশীদ আলমের নিয়োগ গত ২৪ মে হলেও ঈদের ছুটির পর ১ জুন থেকে ব্যাংক খোলার পর তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। গত ১৫ দিনে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। এ প্রসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসাইন বলেন, ‘গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নেওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানাই।’