বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠন নিয়ে ভেতরে-বাইরে আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে। সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে শিগগিরই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বলয়ের বাইরে এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার নাম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। সভাপতি পদে জবি শিক্ষার্থী ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের নাম শোনা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন কমিটিতে রাজপথে সক্রিয়, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে দলীয় হাইকমান্ড। এজন্য রীতি ভেঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকেও শীর্ষ নেতৃত্বের যে কোনো একটি পদ বাইরে থেকে আসতে পারে। সেই বিবেচনায় সভাপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেতের নাম সামনে এসেছে। ছাত্রদলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা বাসেত এর আগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের আন্দোলন, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জন্য নেতৃত্ব বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষালয় স্থাপন, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। এ ছাড়া প্রবীণদের সম্মাননা প্রদান এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণেও সংগঠনের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা মনে করেন।
রাজনৈতিক জীবনে বাসেতকে নানা প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মুখোমুখিও হতে হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন এবং পুলিশের অভিযানের সময় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও রামপুরা এলাকায় ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে গুমের হুমকি ও পরিবারসহ নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও সংগঠনের নেতারা দাবি করেন।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন। জবি ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি ধাপে ধাপে নেতৃত্বের পর্যায়ে উঠে এসেছেন। বাংলা বিভাগের ২০০৯–১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শামসুল আরেফিন এর আগে জবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অনুমোদনে গঠিত জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।
সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি, আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি একজন পরিচিত সংগঠক হিসেবে বিবেচিত। ক্যাম্পাসে দলকে সক্রিয় রাখা, কর্মীদের সমন্বয় করা এবং নতুন কর্মী তৈরির ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের একাধিক নেতা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ের রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশেও সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শামসুল আরেফিনের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। নেতাকর্মীদের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংগঠনের সঙ্গে থেকে কাজ করার কারণে তিনি ছাত্রদলের ভেতরে আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত।
এদিকে ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন, রাজপথে সক্রিয় ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের নেতৃত্বে আনলে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। সেই বিবেচনায় সভাপতি পদে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত এবং সাধারণ সম্পাদক পদে শামসুল আরেফিনের নাম আলোচনায় থাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীদের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসবেন তা নির্ভর করছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। দলীয় সূত্র বলছে, শিগগিরই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। আর সেই কমিটিতে কারা স্থান পাচ্ছেন, তা নিয়েই এখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে জোর জল্পনা-কল্পনা চলছে।