সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোতে ২০২০-২১ সেশনের বৃদ্ধি হওয়া ফি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) এই তথ্য জানান তিনি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির পেক্ষিতে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর ফি ১০০০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল এই বিষয়ে অফিসিয়াল নোটিশ প্রকাশ করা হবে।’
এর আগে, গত ৩ এপ্রিল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে ‘এক সেমিস্টারে ফি বাড়ল ৩ গুণ, ভিসির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ টিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নজরে আসে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের। পরে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানালেন উপাচার্য।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭ম সেমিস্টারের ফি বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগের ব্যাচে যেখানে এ সেমিস্টারের ফি সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা ছিল, সেখানে বর্তমান ব্যাচে তা বাড়িয়ে ৩৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ৭ম সেমিস্টারে সাধারণত ফি তুলনামূলকভাবে কম থাকে, কারণ এ সেমিস্টারে কোনো লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় না। বরং শিক্ষার্থীরা বিনা পারিশ্রমিকে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতার ইন্টার্নশিপ করে থাকেন এবং একটি ভাইভার মাধ্যমে সেমিস্টার সম্পন্ন হয়। এ অবস্থায় পরীক্ষা ফি, কেন্দ্র ফি আরও অতিরিক্ত বিষয়ের ফি ইত্যাদি যুক্ত করে ফি বৃদ্ধি করাকে তারা অযৌক্তিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ১৪টি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধান দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ফি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠবে। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের প্রতি বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।