জুলাই বিপ্লবে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নিজেদের ব্যর্থতার গ্লানি ঢাকতেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের এই ত্যাগকে অবমূল্যায়ন করছে। বিএনপির নেতৃত্ব জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করছে মূলত নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে।
শনিবার দুপুরে ডিআরইউতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ সম্পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে জুলাই বিপ্লবের একটা দিক মেনে নিয়েছে ৫ আগস্টকে। কিন্তু ৬ আগস্ট থেকেই তারা এর বিরোধী বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছে। তারা কখনোই ভাবে নাই স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই রকম একটা বিপ্লব করে ফেলবে। শুধুমাত্র এই আকষ্মিকতাকেই তারা স্বীকৃতি দিয়েছে। এরপর থেকেই তারা এর বিরুদ্ধে চলে গেছে। বিএনপির সফলতা- ব্যর্থতা মানেই জুলাই বিপ্লবের সফলতা- ব্যর্থতা।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীরা জেল জুলুম সহ্য করেছে, গুম ও খুন হয়েছে। তাদের সেই ত্যাগকে ধারণ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তারা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। জনগণ যদি ক্ষমতার মালিক হয়ে থাকে, তাহলে জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটে প্রায় ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।
ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার করার যে উদ্যেগ নিয়েছিলেন সেটা ছিল জুলাই সনদ। নির্বাচনের আগে সকল বড় রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর একটি দল ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদের সাথে বেইমানি করলেন। জুলাই সনদকে মেনে না নিলে গত আঠারো মাস যারা দেশ পরিচালনা করলেন তারা অবৈধ। যে নির্বাচন হয়েছিল সেই নির্বাচন অবৈধ। নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠন করা হয়েছে, সেই সরকার অবৈধ।
সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সহকারী এটর্নি জেনারেল গোলাম রহমান ভূঁইয়া বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন কেন করতে হচ্ছে আমার বুঝে আসছে না। নির্বাচনে জনগণ গণভোটে হ্যাঁ তে ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে জয়ী করেছে। জুলাই সনদ করার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে মতামত নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। জুলাই সনদ যদি সংবিধানে না থাকে, তাহলে এই নির্বাচন বা নির্বাচিত সরকার কি বৈধ হবে? এই সরকারও তো অবৈধ হয়ে যাবে। জনগণ যদি হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করে থাকে, তাহলে সরকারকে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে।
আলোচনা সভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক আহমেদ করিম, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল হক, লেবার পার্টি বাংলাদেশের সভাপতি মহিউদ্দিন প্রমুখ।