শাহবাগপন্থী কয়েকটা সংগঠন টিকেই আছে শুধু ইসলামিক দলগুলোর বিরোধিতা করে, এমন মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেছেন, এদের একটা জোটবদ্ধ এলাই আছে, নিজেদের মধ্যে শত দ্বন্দ্ব থাক কিন্তু যেকোনোভাবে ‘ইসলামিক’ কিছুকে বিতর্কিত করতে ওরা বইসা থাকে। ওরা তখন কারো আকিদা, মতাদর্শ দেখে না। দেখে খালি পরিচয়।
আজ শনিবার (৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে ফাতিমা তাসনিম জুমা লিখেছেন, ‘ইসলামিক যে দলগুলো মেইনস্ট্রিম, তাদের সবার বিরুদ্ধেই মোটামুটি এরা ক্ষ্যাপা। প্রত্যেকটির ন্যূনতম ত্রুটি পেলেই মাঠ গরম করে ফেলে। ১৩-এর শাপলায় হেফাজতের ওপর নির্যাতনের ছবি দিয়ে ওরা এমন ভাবে ফ্লেক্স নেয় যেনো হাসিনা বা পুলিশ নয়, ওরাই নিজ হাতে মেরে পূণ্য করেছে। তাদের মতে গাছ কেটে ফৌজদারি অপরাধ করেছে যেহেতু, তাই তাদের উপর নির্বিচারে গণহত্যা চালানো যায়।’
তিনি বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত এটা নিয়ে সুশীল এপলিটিক্যাল তবে নারীবাদ চর্চা করা কাউকেই কথা বলতে দেখি না। এরা হুজুর ছিল, এদের নিয়ে কথা বলব কেন টাইপ হীনমন্যতা থেকে। ২৪ এর পর শিবির মোটামুটি মেইনস্ট্রিম হওয়ার পর পর ওদের চোখের ঘুম উধাও! শুরু হয় নানান প্রোপাগাণ্ডা। গত বছর মার্চের ৫ তারিখেই এক হ্যারাজারকে ফুলের মালা দেয় একগ্রুপ, দায় হইলো শিবিরের।’
তিনি বলেন, ‘এদের যে কোনো আন্দোলনে স্যাবোটেজ গ্রুপ হিসেবে পাওয়া যেতো, যারা যেকোনো মূল্যে যেকোনো আন্দোলনকে ডাইভার্ট করে বিশ্বকে মোটামুটি বাংলাদেশ উগ্রদের হাতে হাসিনার এই বয়ানকে শক্তিশালী করে বেড়াইতো। এদের কর্মকাণ্ডের দায় ও টুপ করে দিয়ে দেওয়া হতো শিবিরকে। এদের এখন আর দেখা পাওয়া যায় না যদিও।’
ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, মূল আলাপ করার আগে এদের নিয়ে আরেকটু আলাপ না করে পারতেছিনা, এই স্যাবোটেজ গ্রুপ কথায় কথায় প্রথম আলো ডেইলি স্টার আর ছায়ানট ভাইঙ্গা মেইন আন্দোলনের ... মেরে দিতে সিদ্ধহস্ত ছিল। একদিন শাহবাগ থেকে আসার পথে দেখি ইনকিলাবের নাম নিয়ে দাঁড়াইসে। আমি আর জাবের ভাই দেখে যাওয়ার পথে পেছনে দাঁড়াইয়া শুনতেছিলাম কী বলে।
তিনি বলেন, তাঁর ৫০০ কোটি টাকা লাগবে, প্রথম আলো ভেঙে আমার দেশ বানাবে ওই জায়গায়। শুইনা জাবের ভাই সামনে গিয়ে মিডিয়ায় জানাইলো ইনকিলাব মঞ্চ আপাতত কোনো টাকা নিতেছে না এবং জাবের-জুমা ছাড়া ইনকিলাবের হয়ে কেউ বক্তব্য দিচ্ছে না। পুরো বিচারের আন্দোলনের টাইমে এরা যে কি যন্ত্রণা দিছে।
তিনি আরও বলেন, শাহবাগে একদিন স্যাবোটেজ প্লান শুনে আমরা প্রোগ্রাম শেষ করে দিলাম। বের হব আমরা এমন সময় ৪/৫ টা ককটেল ফুটছে, এর মধ্যে আরেকদল আসছে পতাকা মিছিল কইরা। রাত তখন বাজে ২ টা। ওই ক্রিটিক্যাল মোমেন্টে বলে আমরা গেলেও তারা নাকি থাকবে! বোঝেন অবস্থা।
ফাতিমা তাসনিম জুমার ভাষ্য, রেজওয়ানা আপার মতে তারা উগ্রবাদীদের মেইনস্ট্রিম হইতে দেন নাই। উগ্রবাদীতে কারা কারা পড়ে জানি না। কিন্তু ওই সংগঠনগুলো, যাদের কথা একদম শুরুতে বলেছিলাম, তারা রাজনীতি হারা হওয়ার ভয়ে যাদের মধ্যে ন্যূনতম ইসলামিক রিপ্রেজটেশন হতে দেখতো উইঠা পইড়া লাগতো ভিলিফাই করতে। এনসিপি যেই মাত্র মধ্যপন্থী অবস্থান থেকেই সামান্যতম ও প্রো ডান কোনো স্ট্যান্ড নিতো, ওদের পর্যন্ত উগ্রবাদী বলতে ছাড়া হতো না।
তিনি বলেন, ১৩ এর মতো অবস্থা। সবচেয়ে মেইনস্ট্রিম ছাত্র সংগঠন শিবির, জামাতের চেয়েও জনপ্রিয়। জুলাইয়ের স্টেক ধইরা রাখতে পারছে। তাই তাদের ঠ্যাকাইতে সবাই মিলে একতাবদ্ধ। মোটামুটি সংঘবদ্ধ প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হতো সত্যের সাথে মিথ্যা মিশিয়ে। কিন্তু ডাকসুর টাইমে সমানে ছড়ানো নানান ট্যাবু ধুম করে ভেঙে দেয় সর্বমিত্র চাকমা ও ফাতিমা তাসনিম জুমা।
এইবার শাহবাগের রাগ অন্য যে কারো চেয়ে বেশি সর্ব এবং জুমার ওপর উল্লেখ করে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘তাদের যুক্তিতে ঠ্যাকাইতে না পারলে পুরোনো অভ্যাসমতো বেছে নেয় ব্যক্তি আক্রমণ। সর্বকে সেই টাইম থেকে কিসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আমি টুকিটাকি জানি। আমারগুলো তো সবার জানা। এখনো যেহেতু আমারে দমানো যায় নাই, এখন একটাই উপায় ট্রল ও মিম। এজ ইফ আমি এগ্লারে গুনি! (গুনি না নয়, শব্দটা আমি যেটা একজনের ঝাড়ির ভয়ে লিখতে পারছিনা ওইটাই)।’
তিনি বলেন, ‘ওরা সব সময় শক্তিশালী। এবং ওরা তাদের পেছনেই বেশি লাগে যাদের যোগ্যতা, সততা, গ্রহণযোগ্যতা ওদের অস্তিত্বের জন্য কাল। এখন ওরা কাউকে খারাপ বললে আমার তারে ভালো লাগে। এমন অনেক নেতা আছে এনসিপি, শিবির ও হেফাজতে যাদের আমি দুইচক্ষে দেখতে পারতাম না। অথচ এখন শাহবাগ ওদের ভিলিফাই করতে দেখলেই আমার নিজের অপরাধবোধ কাজ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন ওদের আরও বড়ো অস্ত্র আছে। কিছু মিডিয়া আবার আগের রূপে ফেরত গিয়েছে। যেসকল নেতার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের সপক্ষে হওয়ায় অভিযোগ এনেছিল একে একে মিথ্যা প্রমাণ হইলো। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি মিডিয়া এবং শাহবাগ যার বিরুদ্ধে ট্রল বা ট্রায়াল করবে আমি আমার শত্রু হইলেও তার পক্ষে থাকবো। শুধু জুলাইয়ের কারণে, বাংলাদেশ পন্থার কারণে যদি কাউকে টার্গেট করা হয় সেটা আমার অপছন্দের কেউ হইলোও তার জন্য দাঁড়ানো কর্তব্য।’
ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, সেটা মেঘমল্লার হইলেও (তাদের ভিক্টম হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ)। ওসমান হাদিকে এমপি প্রার্থী হওয়ার কারণে মারে নাই। তাঁকে মারার ষড়যন্ত্র হইসিলো সেই ২৪ এর ডিসেম্বরে। পুরো ২৫ জুড়ে এর বৈধতা উৎপাদন করেছে শাহবাগ। এখনও তারা একই কাজ করছে যাতে বিচার ব্যহত হয়। এই কারণেও কাউকে টার্গেট করতে দেখলে ঘর পোড়া গরুর মতো ভয় হয়।’
‘যাই হোক, এতো কথা কেন বললাম ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে আগামী কয় মাসের মিডিয়াগুলোর দিকে চোখ রাখলেই উত্তর পাবেন। সর্বশেষ Sarba Mitra Chakma-কে শুভ কামনা। ইউনূস, আসিফ মাহমুদ, জুমা, আম্মার হইলো, এবার নিশ্চিত ওর ট্রায়ালের পালা। অসত্যের কাছে কভু নত নাহি হবে শির, ভয়ে কাঁপে কাপুরষ, লড়ে যায় বীর’, যোগ করেন ডাকসুর এ নেত্রী।