Image description
 

৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে গেলে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর পদত্যাগ নিয়ে জোর গুঞ্জন ওঠে। তবে তিনি পদে বহাল থাকেন এবং পরবর্তী সময়ে একাধিক সরকারকে শপথ পাঠ করান—যা দেশের ইতিহাসে বিরল নজির বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কালের কণ্ঠ–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাকে নানা ক্ষেত্রে ‘অবহেলা’ ও ‘অপমানের’ মুখে পড়তে হয়েছে। তার দাবি, এক পর্যায়ে বিদেশের কনস্যুলেটগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলা হয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ সফর শেষে নিয়মমাফিক সাক্ষাৎও হয়নি বলে তিনি আক্ষেপ করেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কাতারের আমিরের আমন্ত্রণে সম্ভাব্য সফর স্থগিত রাখতে তার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল—যাতে তাকে সই করতে বলা হয়। তিনি আপত্তি জানালেও জবাব পাননি বলে দাবি করেন। প্রেস উইং অপসারণের ফলে দীর্ঘ সময় আনুষ্ঠানিক বার্তা দেওয়াও সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অভিযোগের পাশাপাশি তিনি জানান, কঠিন সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তার পাশে ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিয়মিত বাণী প্রচারের সুযোগ ফিরে পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়—কেউ রাষ্ট্রপতির বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, কেউ আবার পাল্টা ব্যাখ্যার দাবি তুলছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই বিতর্ক নিরসনের মূল পথ।