প্রধানমন্ত্রী কিংবা কোনো ভিভিআইপি মুভমেন্টে বারবার রাস্তাঘাট বন্ধ করে দুপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর প্রহরায় গাড়ি ছুটতে দেখা যেত। এবার দেখা গেল এক ভিন্ন পরিবেশ- রাস্তায় গাড়ি ছুটছে, সাধারণ মানুষ চলাচল করছে, তার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছে। আর তার গাড়িবহরও খুব একটা লম্বা নয়, নেই কড়া প্রটোকল কিংবা প্রহরীর বাড়াবাড়ি। কোনো কোনো জায়গায় দীর্ঘ সময় সিগনালে বসে থাকছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে দেশে ভিভিআইপি মুভমেন্টের এক ব্যতিক্রম নজির স্থাপন করলেন তিনি। তাকে ব্যতিক্রম দেখা গেছে আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে মন্ত্রিসভার সদস্য তাজউদ্দীন আহমেদ এক্ষেত্রে স্মরণযোগ্য। তিনি মন্ত্রী থাকার সময়ে বাইসাইকেলে অফিসে যেতেন। তবে এরই মধ্যে বহু বছর গড়িয়ে গেছে। পরে অনেক মন্ত্রী বাসে, ট্রেনে চেপে অফিসে যাবেন প্রতিশ্রুতি দিলেও চেয়ারে বসে বেমালুম ভুলে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।
পরিস্থিতি দেখে অনেকেই বলছেন ব্যতিক্রমী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসা থেকে রওনা হয়ে নিজ গাড়িতে সচিবালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে যাত্রা শুরু করে চারটি ট্রাফিক সিগনালে লাল বাতি জ্বলে উঠলে গাড়ি নিয়ম মেনে থামে। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ে পৌঁছান। পুরো পথে সময় লাগে ৪১ মিনিট। নতুন সরকারের দ্বিতীয় কর্মদিবসে বাংলাদেশ সচিবালয় এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্য ও কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে। প্রশাসনিক সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুরোদমে কাজ শুরু করেছেন মন্ত্রীরা।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সরকারপ্রধান সাধারণ নিয়মেই সড়কপথ ব্যবহার করেছেন। পথে সিগনালে গাড়ি থামলে পথচারীরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। কেউ কেউ কাছ থেকে সেলফিও তোলেন।
এর আগেও আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি গাড়িতে নয়, নিজের গাড়িতেই চলাফেরা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। এ কারণেই তিনি তার নিজের গাড়ি ব্যবহার করেন। ব্যক্তিগত গাড়িতেই চলাফেরা করবেন
প্রধানমন্ত্রী। তিনি সরকারি বরাদ্দের গাড়ি নেননি। প্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়ি, নিজের চালক ও নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরদিনই বাস্তবে তার সেই অবস্থান দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নাগরিক সমাজে আলোচনা চলছে।
সচিবালয়ে ১ নম্বর ভবনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর রয়েছে। বিএনপি সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর দিন বুধবারও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে অফিস করেন। এর আগের সরকারপ্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূস এক দিন এবং তার আগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবালয়ে দুই দিন অফিস করেছেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন।