১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মূল্যায়ন সামনে এসেছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ–এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এবারের নির্বাচন মোটামুটি গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে এবং এতে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর সুস্পষ্ট উপাদান দেখা যায়নি। তার মতে, আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ না নিলেও দলটির অনেক নেতাকর্মী স্থানীয়ভাবে অন্য দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যুক্ত ছিলেন, ফলে ভোটার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের একটি অংশ সম্পৃক্ত ছিল।
তবে ভিন্ন মতও উঠে এসেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শপথের পর বলেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখায় প্রায় ৩০ শতাংশ জনগণের প্রতিনিধিত্ব সংসদে অনুপস্থিত থাকবে। তিনি অতীত সংসদের উদাহরণ টেনে বলেন, আগে বিএনপি সংসদে ছিল না, এবার আওয়ামী লীগ ও বাম দলগুলো নেই—যা প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলেছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ হয়েছে; দুটি আসনের ফল আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল। ভোট পড়েছে প্রায় ৫৯.৪০ শতাংশ, আর গণভোটে অংশগ্রহণ ছিল ৬০.২৬ শতাংশ।
দলভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেয়েছে ২০৯ আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদ একটি করে আসন পেয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টিসহ ৪১টি দল কোনো আসন পায়নি।
সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে একদিকে সন্তুষ্টির মূল্যায়ন, অন্যদিকে প্রতিনিধিত্ব ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক—দুই ধারার আলোচনা সমান্তরালে চলছে।