২০২৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের আশা নিয়ে সর্বস্তরে পৌঁছতে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। আশানুরূপ ফল না হওয়ায় কিছুটা আশাহত জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তবে দলটির নেতারা বলছেন, সামনের দিনের রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রামে সবাইকে পাশে পেতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে একত্রে ঈদ উদযাপন করবেন জামায়াতের সংসদ সদস্য ও এলাকার বাইরে অবস্থানরত দলটির নেতারা।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ায় ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ঈদের দিন সকালে বিরোধীদিলীয় নেতার বাসা মিন্টো রোডে অবস্থান করবেন। ঈদের নামাজ শেষে সকাল ১১টায় কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় করবেন।
গত বছর ঈদে নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত আমির সিলেটে নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করেন। দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা ছিল নিজ নিজ এলাকায় জনগণের সঙ্গে ঈদ করার। দলটির নেতারা জানান, এর আগে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময় দলটির নেতারা কোনোভাবে নিজ এলাকায় যেতে পারতেন না।
জামায়াত নেতারা এবার কে কোথায় ঈদ করবেন জানতে চাইলে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগে আওয়ামী সরকারের আমলে সুযোগ না পেলেও এবার দলীয় নেতারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে জনসাধারণের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। কর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং দরিদ্র মানুষের খোঁজখবর নেন ও তাদের ঈদের আনন্দে শামিল করেন।’
ঈদের পর জুলাই সনদ ইস্যুতে রাজপথে নামার চিন্তা : জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরুর পর থেকে জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে সরব রয়েছেন জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে শুরুতে বিক্ষোভ মিছিল বা সমাবেশ করতে পারে ১১ দলীয় ঐক্য। দাবি আদায় না হলে ধীরে ধীরে আন্দোলনের মাত্রা বাড়তে পারে। মূলত এই আন্দোলন ঈদের পরে হবে।
১১ দলীয় জোটের নেতারা জানান, জুলাই সনদের বিষয়টি সংসদে এখনো সুরাহা না হওয়া এবং বিএনপির কাছ থেকে এ বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকায় এবং এই সংসদ অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু না হলে আগামীতে রাজপথে আন্দোলন শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলগুলো।
গত ১৫ মার্চ সংসদের বাইরে জামায়াত আমির বলেছিলেন, ‘স্পিকারের অনুরোধ অনুযায়ী আমরা নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দেব। আমরা আন্তরিকভাবেই চাই, এই সমস্যার সমাধান সংসদের ভেতরেই হোক। কিন্তু কোনো কারণে যদি সংসদের ভেতরে স্বাভাবিক সমাধান পাওয়া না যায়, তাহলে বাধ্য হয়ে আমাদের রাজপথে আন্দোলনে যেতে হবে; যদিও আমরা তা চাই না। যেহেতু বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে এবং স্পিকার নোটিশ দিতে বলেছেন, তাই সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির সংসদে সংস্কার কমিশনের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি সংসদের ভেতরে ও বাইরে সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। যদি এই সমস্যার সমাধান সংসদীয় প্রক্রিয়ায় না হয়, তাহলে আগামী ২৮ মার্চ শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে।’ এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁরাও আলোচনা করছেন। সংসদে আলোচনা উঠেছে। তাঁরা এখন পর্যালোচনা করছেন। তবে আন্দোলনের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।