বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে। ঘোষিত এ মন্ত্রিসভার তালিকায় দলের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও ত্যাগী নেতা স্থান না পাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাবিব উন নবী খান সোহেলের। বিগত ১৫ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে তাকে উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৬১৮টি মামলা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম নামের এক অনুসারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ৬১৮টি মামলার আসামি হয়েও প্রিয় নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল ভাইয়ের নাম মন্ত্রিসভায় নেই। তিনি এটিকে রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। বিরোধী দলে থাকার সময় তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের দুঃসময়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততার কারণে একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। মন্ত্রিসভায় তার অনুপস্থিতিতে তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা প্রকাশ পায়। গোলাম সরোয়ার সরকার নামের এক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, দুদু ভাইকে আর কত বঞ্চিত করা হবে—রাজপথের প্রতিটি কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেছে, অথচ মন্ত্রিসভায় তার স্থান হয়নি।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। বিগত ১৫ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকার কারণে একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২৫৪টি মামলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। নয়াপল্টনে এক কর্মসূচি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। মন্ত্রিসভায় তার অনুপস্থিতি নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা দেখা গেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিত। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ থাকাকালে সংসদ ভবন এলাকায় এক আন্দোলন কর্মসূচিতে হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও আলোচিত হয়। তবে সদ্য ঘোষিত মন্ত্রিসভায় তারও স্থান হয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হননি। ২০২৩ সালে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে দলীয় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পুলিশের হামলার শিকার হন। তবুও ঘোষিত মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর দলীয় অভ্যন্তরে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব জ্যেষ্ঠ নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।