Image description

গাজাজুড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিভিন্ন এলাকার ছবি যুদ্ধের প্রতীক হয়ে ওঠার পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এসব ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ আবাসিক এলাকার ধ্বংসস্তূপের ছবি, দেখা যাচ্ছে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুতের নির্মম জীবনযাপনের চিত্র আর অসংখ্য লাশের সারি। গাজায় হামলার সময় এক ইসরাইলি সেনার সঙ্গে মার্কিন ইউটিউবার জেফ ডেভিডসনের শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে কথা হয়। যে ভিডিও ফুটেজ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বেশ খোলামেলা আলোচনা করেন ইসরাইলি ওই সেনা। এ অঞ্চলের ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে কীভাবে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছে এবং যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছেন-তা আলোচনা করেন। তাদের এই কথোপকথনের সময় ডেভিডসন ওই সেনাকে হত্যার জন্য অভিযুক্ত করেন। বলেন, আইডিএফ নারী ও শিশুদেরও হত্যা করেছে। এক পর্যায়ে তাদের কথোপকথন তীব্র আকার ধারণ করলে ওই সেনাকে প্রশ্ন করা হয়-তুমি একদল নারী ও শিশুকে হত্যা করেছ, এজন্য ধিক্কার তোমাকে। তখন ওই সেনা বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বলেন, ‘আমরা কেবল হত্যাই করি না, আমরা ধর্ষণও করি।’

ইসরাইলি ওই সেনার স্বীকারোক্তিমূলক ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি ঘিরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে তিনি প্রকাশ্যে গাজায় হত্যা ও যৌন সহিংসতার মতো নৃশংস অপরাধের কথা স্বীকার করতে দেখা যায়।

আলাপচারিতায় ডেভিডসন প্রথমে ওই সেনার পরিচয় এবং সামরিক সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে ওই ব্যক্তি নিজেকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) সদস্য বলে দাবি করেন এবং জানান, তিনি গাজার ভেতর থেকে সম্প্রচার করছেন।

ডেভিডসন যখন বলেন, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী আইডিএফ, তখন তিনি কোনো দ্বিধা বা অনুশোচনা ছাড়াই তা স্বীকার করেন।

লাইভ স্ট্রিমে ওই সেনা ক্যামেরা ঘুরিয়ে গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখান ডেভিডসনকে। তিনি বলেন, ‘গাজা দেখতে চান? অবাক হবেন না, এখানে কোনো বাড়ি নেই। সব সমান, পুরোপুরি সমান করে দিয়েছি।’ডেভিডসন প্রশ্ন করেন, ‘আপনারাই কি সব গুঁড়িয়ে দিয়েছেন? জবাবে ওই সেনা বলেন, ‘হ্যাঁ।’

পরিস্থিতি আরো উত্তেজনাকর অবস্থায় মোড় নেয় যখন সেনাটি বলেন, ‘আমরা নারী ও শিশুদের হত্যা করেছি।’ এরপর তিনি ঠাণ্ডা মাথায় যোগ করেন, ‘আর হ্যাঁ, আমরা তাদের ধর্ষণও করেছি।’

ওই ফুটেজটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন আন্তর্জাতিক ও অধিকার সংস্থাগুলো গাজায় বেসামরিক হতাহতের পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যেখানে নিহতদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু।

শীর্ষনিউজ