বিএনপির মন্ত্রিসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ভোট কারচুপি) উন্মোচন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষতার স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে ছাত্র উপদেষ্টারা পদত্যাগ করেছিল। খলিলুর রহমান ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এরপরও তিনি এখন বিএনপির মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন। এই প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ছাত্র উপদেষ্টারা পদত্যাগ করেছিল নিরপেক্ষতার স্বার্থে। তখন ব্লেম (দায়) দেওয়া হয়েছিল যে এই ছাত্র উপদেষ্টারা একটা দলের সঙ্গে সংযুক্ত। এখন খলিলুর রহমান যদি এই বিএনপির সরকারে মন্ত্রী হন বা সরকারের অংশ হন, তাহলে একটা প্রশ্ন উঠবে যে আগের অন্তর্বর্তী সরকারে উনি রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন।’
এনসিপি প্রধান আরও বলেন, ‘নির্বাচনে যে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা আমরা বলছি, আমরা যেটা দেখলাম যে ফলাফলে কারচুপি হলো। আমাদের অনেকগুলো আসন হারিয়ে দেওয়া হলো। পরিকল্পনা করে দুই তৃতীয়াংশ আসন সরকারি দল নিয়ে নিল। এই সংবিধান সংস্কার যাতে না হয় এই জটিলতা, এটার পুরোটাই একটা ইঞ্জিনিয়ারিং। আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, আজকে জাতির সামনে সেটা উন্মোচন হচ্ছে খলিলুর রহমানের (সরকারে) যোগ দেওয়ার মাধ্যমে।’
বিএনপির সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ সরকারি দল হিসেবে তারা যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিল না, এটা গণভোটের গণ রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানো।’
বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করে এনসিপি। এনসিপির মিডিয়া সেল বিষয়টি জানিয়েছে।
এ ছাড়া দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুক পোস্টে বলেন, গণভোটে জনরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করে শপথ নিতে যাচ্ছে সরকার। সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে তিনি শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন। ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়ে শপথ না নেওয়া হাসিনার সংবিধান অক্ষুণ্ন রাখার শপথ নেওয়ার শামিল বলে প্রতীয়মান হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন তিনি।