Image description

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুরের পাঁচটি আসনে ভরাডুবি হয়েছে ফ্যাসিস্টদের দোসর জাতীয় পার্টির। দলটির প্রার্থীরা প্রতিটি আসনেই জামানত হারিয়েছেন। রংপুরকে দীর্ঘদিন ধরে দলটির মূল রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এবারের নির্বাচনে প্রত্যাশার সঙ্গে ফলাফলের ছিল বড় ধরনের অমিল। দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে রংপুর-১ আসনে দলীয় প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বাকি পাঁচটি আসনে প্রার্থী দেয় দলটি। কিন্তু সবকটিতেই পরাজয়ের পাশাপাশি জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ)

এ আসনে সাবেক এমপি আনিসুল ইসলাম মণ্ডল লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি বিপুল উৎসাহ নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার চালিয়েছিলেন। সভা-সমাবেশে লোকসমাগমও ছিল প্রচুর। হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ভোটারদের কাছ থেকে ভোট চেয়েছিল দলটি। কিন্তু ভোটাররা লাঙ্গলকে বয়কট করে বিপুল ভোটে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করেছেন। আনিসুল ইসলাম ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর)

আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তার পক্ষে রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মুস্তাফিজুর রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতারাসহ জোরালো প্রচার চালিয়েছিলেন। তবে সে সময় জিএম কাদের জুলাইযোদ্ধা ও জুলাই আন্দোলন সম্পর্কে নানা মন্তব্য করে বিতর্কিত হন। এর জেরে ভোট চাইতে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে নাজেহালও হন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। জুলাইযোদ্ধারা নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যালটে জাতীয় পার্টিকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারপরও জয়ের আশায় বুক বেঁধে নির্বাচনি লড়াইয়ে ছিলেন জিএম কাদের। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে ভোট গণনা শেষে দেখা যায় তিনি পাঁচ লাখ ভোটের মধ্যে মাত্র ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট পান, ফলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয় তার।

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া)

এ আসনে লাঙ্গল প্রতীক পান সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান। এর আগে উপজেলা নির্বাচনেই জাতীয় পার্টি ভোট পেয়েছিল দুই লাখের কাছাকাছি। এবার তারা আশা করেছিল আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে জিতবে। লাঙ্গলের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান কারাগারে গিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন। তবে এত কিছু করার পরও সেখানে ৩৩ হাজার ৬০০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন জাপা প্রার্থী।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর)

এ আসনে লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছিলেন শিল্পপতি ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর। আশা ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ভোট নিয়ে সহজে এমপি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু মিঠাপুকুর এলাকার মানুষ তাদের জামানত ফেরত পাওয়ারও সুযোগ রাখেনি। জাতীয় পার্টি ভোট পেয়েছে ১৬ হাজার ৪৯০টি। ফলে লাঙ্গলের প্রার্থী ভোটের পরপরই গাঢাকা দিয়ে ঢাকায় ফিরে গেছেন।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)

পীরগঞ্জ আসনে নুর আলম জাদু মিয়া লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। তিনি পান মাত্র এক হাজার ২০০ ভোট, যা পাঁচ আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এখানেও জামানত হারাতে হয় দলটিকে।

আওয়ামী লীগের ভোটে জিতে সংসদে যাওয়ার আশায় জাতীয় পার্টি মনোনয়ন দিয়েছিল নুর আলম জাদু মিয়াকে। কিন্তু পীরগঞ্জের মানুষ জাতীয় পার্টিকে একেবারেই বয়কট করেছে। ফলে এখানে জাতীয় পার্টি লজ্জাজনকভাবে জামানত হারায়। মাত্র এক হাজার ২০০ ভোট পেয়েছেন নুর আলম জাদু।

দলটির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, তারা আশা করেছিলেন আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক থেকে সমর্থন পাবেন; কিন্তু ফল এতটা খারাপ হবে, জামানত বাজেয়াপ্ত হবেÑএমন ধারণা ছিল না।

অন্যদিকে, ডাকসুর শহীদ হাদি হলের জিএস আহমেদ আল সাবা ওসমানী বলেন, যারা জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছিল, তাদের মানুষ আর কখনো গ্রহণ করবে না। রংপুরের মানুষ জাতীয় পার্টিকে কবর দিয়েছে। তারা আর কখনো এ দেশের রাজনীতি করার সাহস পাবে না। জাতীয় পার্টি ভারতের দালাল, তারা গণতন্ত্রের শত্রু।