Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই যুগ পর সরকার গঠন করছে বিএনপি। ২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি, স্বতন্ত্ররা পেয়েছে সাতটি। বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ের মধ্য দিয়ে একেক আসনে চার-পাঁচ জন করে জামানত হারিয়েছেন। দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন ও জাপার প্রার্থীরা। এর মধ্যে সাবেক একাধিক এমপিও রয়েছেন।

গাইবান্ধায় জামানত হারালেন জাতীয় পার্টি মহাসচিবসহ ২৬ প্রার্থী

গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে ৪০ জন প্রার্থীর মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী জাতীয় পাটির মহাসচিবসহ ২৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে তাদের জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, গাইবান্ধা-১ আসনের জাতীয় পার্টি মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) পরামানন্দ দাস, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা আকতার, আমজনতার দলের কাওছার আজম হাচ্চু, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা মহসিন ও ইসলামী আন্দোলনের রমজান আলী। গাইবান্ধা-সদর আসনে জামানত হারালেন বাসদের আহসানুল হাবীব সাইদ, সিপিবির মিহির কুমার ঘোষ, ইসলামী আন্দোলনের মো. আব্দুল মাজেদ, জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার,জনতার দলের সাহেদুজ্জামান। গাইবান্ধা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম খুশি, জাতীয় পার্টির ময়নুর রাব্বি চৌধুরী, স্বতন্ত্র আজিজার রহমান, সিপিবির আব্দুল্লাহিল আদিল, ইসলামী আন্দোলনের আওলাদ হোসেন, জনতার দলের মঞ্জুরুল হক, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোসাদ্দিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের সুরুজ মিয়া। গাইবান্ধা-৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী মো. মশিউর রহমান, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আনোয়ারুল ইসলাম, স্বতন্ত্র আব্দুর রউফ আকন্দ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তৌহিদুল ইসলাম।  গাইবান্ধা-৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, স্বতন্ত্র প্রাথী মেহেদী হাসান বিদ্যুৎ, বাসদের রাহেলা খাতুনসহ ২৬ জন প্রার্থী। 

গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, কাস্টিং ভোটের শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাজায়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা করা হয়। 

এবার সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর। লাঙ্গল প্রতীকে ৩ হাজার ৩৭৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৫২টি। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনও প্রার্থীর জামানত রক্ষার জন্য মোট বৈধ ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পাওয়া প্রয়োজন। সেই হিসাবে, গাইবান্ধা-৫ আসনে জামানত টিকিয়ে রাখতে শামীম হায়দার পাটোয়ারীর প্রয়োজন ছিল ২৬ হাজার ৬৫৬ ভোট। কিন্তু তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৩৭৫ ভোট।

নির্বাচনি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাইবান্ধা-৫ আসনে ১৪৬টি কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আব্দুল ওয়ারেজ ৮৯ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ফারুক আলম সরকার পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৮৩ ভোট।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত হারিয়েছেন ফখরুল ইমাম। তিনি জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য। এবারের নির্বাচনে তিনি মাত্র ১ হাজার ৭১৯ ভোট পেয়ে জামানত হারান। ফখরুল ইমাম ১৯৮৮ সালে প্রথম জাতীয় পার্টির মনোনয়নে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে টানা দুইবার এমপি নির্বাচিত হন তিনি। সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এই জাপা নেতা।

চট্টগ্রামে ৫৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা ১৪টি আসনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রার্থীসহ ৫৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ১৬টি সংসদীয় আসনের মোট প্রার্থী সংখ্যা ছিল ১১৫ জন। তার মধ্যে ১৪টি আসনে প্রার্থী ছিলেন ৯৮ জন। তাদের মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৬০ শতাংশের।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘গণ প্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪১ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও আসনে প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ কোনও প্রার্থী না পেলে তার নির্বাচনি জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসেবে এবার চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে অনেকের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তাদের এ জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।’

কুমিল্লায় ৫৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

কুমিল্লার ১১টি আসনের ৮৩ প্রার্থীর ৫৭ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা ৫০ হাজার টাকা জামানত হারিয়েছেন। জামানত ফেরত পাবেন মাত্র ২৬ প্রার্থী। ইমলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনও প্রার্থীই কুমিল্লায় তাদের জামানত ফেরত পাচ্ছেন না। কারণ প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হয়। ৫৭ জন প্রার্থীই ওই সংখ্যক ভোট পাননি। 

খাগড়াছড়ির একমাত্র ২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে সাত জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য উঠে আসে। এতে বাংলাদেশ মাইনরিটি পার্টির উষ্যপ্রু মারমা, স্বতন্ত্র জিরুনা ত্রিপুরা, গণঅধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজা, জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজা, ইসলামী আন্দোলনের কাউছার আজিজী ইনসিনিয়াত, বাংলাদেশ বিপ্লব পার্টির নুর ইসলাম ও মুসলিম লীগের মো. মোস্তফা জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া ১ লাখ ৪৮ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের ধর্মজ্যোতি চাকমা পেয়েছেন ৫৮ হাজার ১৩৬ ভোট।

খুলনায় জামানত হারালেন জাপা ও ইসলামী আন্দোলনসহ ২৬ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোষিত ফলাফলে বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় খুলনার ছয়টি আসনে ২৬ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ২৬ জন জামানত হারিয়েছেন। 

যশোরে ২৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৭ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী সবকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।

জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির (লাঙল) পাঁচ জন, ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) ছয় জন, আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির (ঈগল) দুই জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের (মই) একজন, খেলাফত মজলিশের (দেয়ালঘড়ি) একজন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ-এর (টেলিভিশন) একজন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার (চশমা) একজন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (কাস্তে) একজন, বাংলাদেশ মাইনরিটির জনতা পার্টির- বিএমজেপি (রকেট) একজন, গণঅধিকার পরিষদের (ট্রাক) একজন ও স্বতন্ত্র পাঁচ জনের মধ্যে চার জন (মোটরসাইকেল, ফুটবল, ঘোড়া, কলস)। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলের বার্তা শিট পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। যশোরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম রাকিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাগেরহাটে ১৪ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন

জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৩ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। মোট বৈধ ভোটের ন্যূনতম সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী তাদের জামানত হারাতে হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবু আনছার।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম, একই দলের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকৌশলী শেখ মো. মাসুদ রানা, জাতীয় পার্টির স. ম. গোলাম সরোয়ার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল)-এর আ. সবুর শেখ, মুসলিম লীগের এম. ডি. শামসুল হক এবং এবি পার্টির মো. আমিনুল ইসলামের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট-কচুয়া) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ আতিয়ার রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ জিল্লুর রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওমর ফারুক এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আ. লতিফ খানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

জামালপুরে ২৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

এর মধ্যে জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনে লাঙ্গল প্রতীকের এ কে এম ফজলুল হক, ট্রাক প্রতীকের মো. রফিকুর ইসলাম এবং হাতপাখা প্রতীকের মো. আব্দুর রউফ তালুকদার জামানত হারিয়েছেন। জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে চার জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেস খান এবং হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সুলতান মাহমুদ জামানত হারিয়েছেন। জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে নয় জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের ফারজানা ফরিদ, কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাদিকুর রহমান, সূর্যমুখী ফুল প্রতীকের শিবলুল বারী রাজু, মাথাল প্রতীকের ফিদেল নঈম, লাঙ্গল প্রতীকের মীর সামসুল আলম, হাতপাখা প্রতীকের দৌলুজ্জামান আনছারী এবং ট্রাক প্রতীকের লিটন মিয়া জামানত হারিয়েছেন। 

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে ছয় জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার মধ্যে ট্রাক প্রতীকের ইকবাল হোসেন, হাতপাখা প্রতীকের মো. আলী আকবর, কেটলি প্রতীকের মো. কবির হাসান এবং কাস্তে প্রতীকের মো. মাহবুব জামান জামানত হারিয়েছেন। জামালপুর-৫ (সদর) আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ডাব প্রতীকের আবু সায়েম মো. সা-আদাত উল করিম, ট্রাক প্রতীকের জাকির হোসেন, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের মাসুদ ইব্রাহীম, তারা প্রতীকের আমির উদ্দিন, বাইসাইকেল প্রতীকের বাবর আলী খান, কাস্তে প্রতীকের আক্কাছ আলী, স্বতন্ত্র হরিণ প্রতীকের হোছনেয়ারা বেগম এবং হাতপাখা প্রতীকের ইউনুস আহাম্মদ জামানত হারিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে দুই সাবেক এমপিসহ ১৪ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনই জামানত হারিয়েছেন। জামানত খোয়ানো এসব প্রার্থীর তালিকায় সাবেক দুই সংসদ সদস্যও রয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কার্যালয় থেকে পাওয়া প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেলার তিনটি আসনেই লড়াই হয়েছে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। এই দুই দলের প্রার্থী বাদে বাকিরা প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম মাত্র ৩ হাজার ৯৫১ ভোট পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে সাত জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচ জনই জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির নুরুন নাহার বেগম, গণঅধিকার পরিষদের ফারুক হাসান, এবি পার্টির নাহিদ রানা, ইসলামী আন্দোলনের রেজাউল করিম এবং সিপিবির সাহাবউদ্দিন আহাম্মেদ জামানত হারিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে আট জনই জামানত খুইয়েছেন। এর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, সিপিবির প্রভাত সমীর শাহজাহান আলম এবং ইসলামী আন্দোলনের আল আমিনসহ আরও পাঁচ জন প্রার্থী।

সিরাজগঞ্জে ২৭ জন জামানত হারিয়েছেন

সিরাজগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। এরমধ্যে ১৫ জন প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট চার অঙ্কের ঘরেও পৌঁছাতে পারেনি। গত শুক্রবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফল পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মাদারীপুরে ১৭ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

মাদারীপুরের তিনটি আসনে মোট ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় ১৭ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তিনটি আসনের ফলাফলে বিজয়ী প্রার্থীরা স্বল্প ব্যবধানে জয় পেলেও অধিকাংশ প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন।

জামানত হারালেন রাজশাহীর ২০ প্রার্থী

রাজশাহীতে জামানত হারিয়েছেন ছয়টি সংসদীয় আসনের ২০ জন প্রার্থী। ভোটের ফলাফলে ছয়টি আসনের মধ্যে বিএনপি চারটি ও জামায়াত দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। শুধু বিএনপি ও জামায়াতের জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরাই জামানতের টাকা ফেরত পাবেন।

ফলাফলে দেখা যায়, রাজশাহী-১ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মির মো. শাহজাহান ৪০৭, এবি পার্টির আব্দুর রহমান ১ হাজার ১০০ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল-সাআদ ৬৬৩ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। রাজশাহী-২ আসনে এবি পার্টির মু. সাঈদ নোমান ৭৮৬, নাগরিক ঐক্যের মোহাম্মদ সামছুল আলম ৫৫২, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মেজবাউল ইসলাম ৩৮৭ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ ৮০১ ভোট পেয়ে জামানত হারান। রাজশাহী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগম ১ হাজার ১১৭ ভোট, জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন ২ হাজার ৩৯০, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফজলুর রহমান ২ হাজার ৩৯০ ও আমজনতার দলের সাঈদ পারভেজ ২৯৫ ভোট পেয়ে জামানত হারান। রাজশাহী-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তাজুল ইসলাম খান ৬৭০ ও জাতীয় পার্টির ফজলুল হক ১ হাজার ৭৫৯ ভোট পেয়েছেন। তারাও জামানতের টাকা ফেরত পাবেন না। রাজশাহী-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন ৬২০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। এছাড়া তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাওসার ৪৪২, ইসফা খায়রুল হক শিমুল (বিএনপির বিদ্রোহী) ২ হাজার ৪৯৬ ও রেজাউল করিম (বিএনপির বিদ্রোহী) ৬ হাজার ৪৩২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। রাজশাহী-৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুস সালাম সুরুজ ১ হাজার ৬২৮ ও জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন ২ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। রাজশাহীর ছয়টি আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৩২ জন। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের ১২ জন ছাড়া বাকি ২০ জনই জামানত হারিয়েছেন।

সিলেটে ২০ প্রার্থী জামানত হারালেন

সিলেটের ছয়টি আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভোট না পেয়ে জামানত হারিয়েছেন ২০ জন প্রার্থী। সিলেট-১ আসনে জামানত হারিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল, ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান, কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. শামীম মিয়া, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) সঞ্জয় কান্ত দাস। সিলেট-২ আসনে জামানত হারান জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের মো. আমির উদ্দিন ও গণফোরামের মো. মুজিবুল হক। সিলেট-৩ আসনে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের রেদওয়ানুল হক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মইনুল বাকের ও মেস্তাকিম রাজা চৌধুরী।সিলেট-৪ আসনে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা সাঈদ আহমদ, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম। সিলেট-৫ আসনে জামানত হারান মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন। সিলেট-৬ আসনে জামানত হারান জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুন নূর, গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান ও স্বতন্ত্র মো. ফখরুল ইসলাম।

বরিশালের ২১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত

বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খাইরুল আলম সুমন জানান, নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তারা হলেন- বরিশাল-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জেপি) সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাসেল সরদার। বরিশাল-২ আসনে জাতীয় পার্টির (জেপি) এমএ জলিল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, জাসদের মো. আবুল কালাম আজাদ, গণঅধিকার পরিষদের রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ, এনপিপির সাহেব আলী। বরিশাল-৩ আসনে ট্রাক প্রতীকের এইচএম ফারদিন, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, মই প্রতীকের আজমুল হাসান জিহাদ। বরিশাল-৪ আসনে মুক্তিজোটের আব্দুল জলিল, জাসদের আব্দুস সালাম খোকন। বরিশাল-৫ আসনে জাতীয় পার্টির আখতার রহমান, এনপিপির আব্দুল হান্নান সিকদারসহ চার জন। বরিশাল-৬ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আব্দুল কুদ্দুস, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. সালাউদ্দিন মিয়া।

রংপুর বিভাগে ভোটযুদ্ধে জামানত হারালেন ৯ নারী প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩টি আসনে লড়েছেন ৯ নারী প্রার্থী। তাদের মধ্যে চারজন ছিলেন স্বতন্ত্র। ভোটের লড়াইয়ে প্রত্যাশিত সাফল্য তো দূরের কথা, প্রত্যেকেই জামানত হারিয়েছেন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নারী প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৮৭৬ এবং সর্বনিম্ন ১৫৩।