Image description

বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা তুঙ্গে। কেউ বলছেন, তিনি সাংবিধানিক কোনো পদে থাকতে পারেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, রাজনীতি বা সাংবিধানিক কোনো পদে ফেরার আগ্রহ নেই তাঁর।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ড. ইউনূসের মেয়াদ শেষের পথে থাকায় তাঁর পরবর্তী ভূমিকা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে, মঙ্গলবার দায়িত্ব নিতে যাওয়া বিএনপি সরকারের সমর্থনে তিনি রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে কোনো সাংবিধানিক পদে থাকতে পারেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের সেরা মেধাবীদের সম্পৃক্ত করার পক্ষে—এমনটাই এনডিটিভিকে জানিয়েছেন তাঁর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ কারও জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্ষম ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করতে চান তারেক রহমান।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট পদ নিয়ে আলোচনা হয়নি। আলোচনা ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা নিয়ে তারেক রহমান সাহেবের আগ্রহকে কেন্দ্র করে। তিনি নির্বাচিত হলে সব ধরনের মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চান।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয়। দেশের স্বার্থে কারও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের প্রয়োজন হলে তাকে সঙ্গে নেওয়া হবে।’ তবে আবারও তিনি স্পষ্ট করেন, এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পদ নিয়ে আলোচনা হয়নি।

বার্গম্যানের মন্তব্য

বাংলাদেশ নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করা ব্রিটিশ মানবাধিকার কর্মী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ড. ইউনূসের শক্ত অবস্থান রয়েছে, যা দেশের কূটনৈতিক স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বার্গম্যান দাবি করেন, তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের আলোচনায় রাষ্ট্রপতির পদও উঠে এসেছিল। তবে বিএনপি ও ড. ইউনূসের কার্যালয়—দুই পক্ষই এমন কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।

প্রেস সচিবের বক্তব্য

ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এনডিটিভিকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে তিনি অন্য কোনো দায়িত্ব নিতে চান—এমন খবর সঠিক নয়।

তিনি জানান, ড. ইউনূসের পরিকল্পনা হলো আগের কাজে ফিরে যাওয়া এবং ‘থ্রি জিরো’—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—ধারণা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া। পাশাপাশি নতুন সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং তরুণদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তাঁর।

প্রেস সচিবের ভাষ্য, রাজনীতিতে বা কোনো সাংবিধানিক পদে তাঁর আগ্রহ নেই। দেশের সংকটময় সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন, এখন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের পর দায়িত্ব নেওয়া ড. ইউনূস এখন পর্যন্ত নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর এ বিষয়ে তিনি কথা বলতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।