কেউ ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউবা উৎসুক চোখে তাকিয়ে। আবার কেউ তুলছেন ছবি। মুঠোফোনে কথা বলার সময় ‘ঈদ মোবারক’ বলেও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন কেউ কেউ। গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিন বেলা ১১টার দিকে গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন সুমন নামের এক বিএনপি নেতা। মুঠোফোনে কথার বলার সময় তার এক বন্ধুকে ‘ঈদ মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন তিনি।
পরে কথা হলে সুমন জাগো নিউজকে বলেন, ‘১৭ বছর পর আমরা যে নির্বাচনটি পেয়েছি, ভোট দেওয়ার চান্স পেয়েছি, গতকাল থেকেই আমার কাছে ঈদের চেয়ে খুশি লাগছিল। আমরা ১৭ বছর পর ভোটকেন্দ্রে গিয়েছি, এতদিন ভোট দিতে না পারার একটি আক্ষেপ ছিল।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার যে আক্ষেপ, সে বিষয়গুলো যখন মানুষের মন থেকে আসে, সেই আবেগগুলো মানুষের মন থেকে বের হয়ে আসে। বিএনপি এখন জনগণের ভোটে সরকার গঠন করবে, সেটি আমাদের কাছে ঈদের চেয়েও বেশি আনন্দের মনে হচ্ছে।’
‘আগে থেকেই আমরা আশা করছিলাম বিএনপি ভালো আসন পেয়ে সরকার গঠন করবে। অন্যদেরও আশা ছিল। সবাই তো আশা করে’—যোগ করেন তিনি।
কার্যালয়টির সামনের ফুটপাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দিদার আলম (২৫)। নরসিংদী থেকে এসেছেন তিনি। উদ্দেশ্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবেন।
কথা হলে জাগো নিউজকে দিদার বলেন, ‘সকাল ৭টায় এখানে এসেছি। অপেক্ষা করছি যদি ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে পারি। গতকাল রাতেই ঢাকায় এসেছি। বিশ্বাস ছিল বিএনপি জিতবে। তা-ই হয়েছে।’
রাজধানীর গেন্ডারিয়া থেকে গুলশান কার্যালয়ের সামনে এসেছিলেন মিন্টু। একজনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। মিন্টু বলেন, ‘একজনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। পার্টি অফিসের সামনে অনেক উৎসুক জনতা রয়েছেন। আমি তাদের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা সানাউল্লাহ রাসেল। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান এলাকায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। গুলশান কার্যালয়ের সামনে সকালে ছবি তুলছিলেন।
জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সানাউল্লাহ। বলেন, ‘সারাদেশে বিএনপির জয়জয়কার। আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। সারাদেশের নেতাকর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। এই পরিশ্রমের ফলে বিএনপি ভূমিধস জয় পেয়েছে। এই বিজয় নিয়ে আমরা খুব আবেগাপ্লুত। এই বিজয়কে দলের সবার সঙ্গে উদযাপন করার জন্য সকালে এখানে এসেছি। দুপুরে জুমার নামাজের পর মিলাদ হবে, মিলাদে শরিক হবো।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির এমন বিজয় আগে থেকেই প্রত্যাশিত ছিল। জামায়াত তো আসলে বট বাহিনীনির্ভর। তারা ফেসবুকে ও নির্বাচনের মাঠে হাইপ তুলে রেখেছিলেন। তারা অনলাইন হাইপ তোলার চেষ্টা করেছিল।’
তার সঙ্গে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক নেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত রাতে তো আমরা ঘুমাতে পারিনি। সারারাতই বসে ছিলাম। আমাদের যে প্রাণের আকাঙ্ক্ষা, বাঙালি জাতির মনের যে আকাঙ্ক্ষা সেটি পূরণ হয়েছে। জুমার নামাজের পর মিলাদ হবে। সেই মিলাদে অংশ নিতে এখানে এসেছি। এখান থেকেই মসজিদে যাবো। সেখানে মিলাদে অংশ নেবো।’
কার্যালয়টির সামনে অবস্থান করা ঢাকা পলিটেকনিকের সাবেক ভিপি ইঞ্জিনিয়ার মাবুবুল আলম সরদার বলেন, ‘দলের নেতাকর্মী যারা আসবেন, তাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি। আমরা সবাই যার যার জায়গা থেকে পরিশ্রম করেছি। আমাদের মনের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। সবার সঙ্গে দেখা হবে, শুভেচ্ছা বিনিময় হবে।’